খরায় পানিশূন্য দানিউব, ভেসে উঠছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জার্মান যুদ্ধজাহাজ

এসব যুদ্ধজাহাজ নাৎসি জার্মানির ব্ল্যাক সি ফ্লিটের অংশ ছিল। ১৯৪৪ সালে রোমানিয়া থেকে পিছু হটার সময় এবং সোভিয়েত বাহিনী ইউরোপের গভীরে অগ্রসর হওয়ার প্রেক্ষাপটে জার্মান বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো ডুবিয়ে দেয়। কিছু জাহাজে এখনো অস্ত্রশস্ত্র রয়ে গেছে

ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী দানিউব। খরার কারণে এ নদীর পানির স্তর এতটাই নেমে গেছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে ডুবে থাকা জার্মান যুদ্ধজাহাজগুলোর ধ্বংসাবশেষ এখন পানির ওপর ভেসে উঠছে। খবর এপি।

প্রচণ্ড গরমের এসময়ে যুদ্ধজাহাজগুলোর আবির্ভাব কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু দানিউবের ইতিহাসের অন্যতম সর্বনিম্ন পানির স্তর মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে আরো বড় সংকট তৈরি করেছে। এতে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সরকারগুলো।

সার্বিয়া ও রোমানিয়ার সীমান্তবর্তী দানিউব নদীর মাঝখানে, সার্বিয়ার প্রাহোভো বন্দরের কাছে এখন একটি মরিচাধরা যুদ্ধজাহাজের কাঠামো এবং একটি ভাঙা মাস্তুল দেখা যাচ্ছে। ওই মাস্তুলেই একসময় নাৎসি জার্মানির পতাকা ওড়ানো হতো।

এসব যুদ্ধজাহাজ নাৎসি জার্মানির ব্ল্যাক সি ফ্লিটের অংশ ছিল। ১৯৪৪ সালে রোমানিয়া থেকে পিছু হটার সময় এবং সোভিয়েত বাহিনী ইউরোপের গভীরে অগ্রসর হওয়ার প্রেক্ষাপটে জার্মান বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো ডুবিয়ে দেয়। কিছু জাহাজে এখনো অস্ত্রশস্ত্র রয়ে গেছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৪৪ সালের সেপ্টেম্বরে সোভিয়েত বাহিনীর গোলাবর্ষণের মুখে প্রাহোভোর কাছে দানিউব নদীর গিরিখাতে প্রায় ২০০টি জার্মান যুদ্ধজাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে দেয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল বলকান অঞ্চলে সোভিয়েত বাহিনীর অগ্রযাত্রা ধীর করা। তবে এর কয়েক মাস পর, ১৯৪৫ সালের মে মাসে নাৎসি জার্মানি আত্মসমর্পণ করে।

এই পুরোনো যুদ্ধজাহাজগুলো আবার দৃশ্যমান হয়ে ওঠায় সার্বিয়া সরকারের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যাও সামনে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আর্থিক সহায়তায় সরকার অনেক দিন ধরেই এগুলো সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। কমিউনিস্ট যুগোস্লাভিয়ার কর্তৃপক্ষ কিছু জাহাজ সরিয়ে ফেললেও, অধিকাংশই নদীতে রয়ে গেছে, কারণ সেগুলোতে বিস্ফোরক ছিল।

এদিকে নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় দানিউবে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই ১০টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই নদীতে নৌযান চলাচল সচল রাখতে কর্তৃপক্ষ নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে।

প্রাহোভোর বাসিন্দা ক্রস্তা ব্রান্ডিচ বলেন, পানির স্তর এতটাই নেমে গেছে যে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর ভাষায়, ‘দেখতেই পাচ্ছেন, বড় জাহাজগুলো এখন আর চলাচল করতে পারছে না।’

আরও