মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের পরিসমাপ্তি টানতে তার পরিকল্পনায় চূড়ান্ত পরিমার্জনের কাজ শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় পরিকল্পনাটিকে এগিয়ে নিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনে দূত পাঠাচ্ছেন তিনি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য মস্কো যাচ্ছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। আর ইউক্রেনে আলোচনার জন্য পাঠানো হচ্ছে সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকলকে। খবর এপি।
যুদ্ধ বন্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভ্লাদিমির পুতিন ও ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেক্ষেত্রে আলোচনায় আরো অগ্রগতি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধের সমাধান পাওয়া কঠিন, এবং এ নিয়ে যে ২৮ দফা পরিকল্পনা সামনে নিয়ে আসা হয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে কাজ চলছে।’
প্রায় চার বছর ধরে চলমান এ যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি সামনে আসে গত সপ্তাহে। এটি অনেকটাই রাশিয়ার অনুকূলে থাকায় মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে তড়িঘড়ি করে যোগাযোগ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আলোচনায় নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াস চালাতে থাকেন ইউরোপীয় নেতারাও।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, স্টিভ উইটকফ আগামী সপ্তাহেই মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করবেন। বৈঠকে তার জামাতা জ্যারেড কুশনারও যোগ দিতে পারেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘মানুষ বুঝতে শুরু করেছে যে এটি দুই পক্ষের জন্যই ভালো চুক্তি।’
এ সময় পরিকল্পনায় উল্লিখিত রাশিয়ার কাছে ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছেড়ে ধেয়ার অংশটি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য হলো রুশ বাহিনী যেভাবেই হোক এসব এলাকা ছিনিয়ে নেবে। তিনি বলেন, ‘এখানে দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতি এক দিকেই এগোচ্ছে। আগামী এক-দুই মাসে রাশিয়া যেভাবেই হোক, এসব ভূমি দখল করে নিতে পারে।’
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে মঙ্গলবার রাতে ব্যাপক হামলা চালায় রাশিয়া। এতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভবন ও জ্বালানি স্থাপনা। দক্ষিণ রাশিয়ায় ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় তিনজন নিহত হয়।
ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, রাশিয়া মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনের দিকে বিভিন্ন ধরনের ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৬০টির বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করে। আঘাতে কিয়েভের কিছু এলাকায় পানি, বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কিয়েভে নোভাস লজিস্টিকস সেন্টারে রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের প্রাঙ্গণে বোমার আঘাতে সৃষ্ট গর্ত ছবি: এপি
এ হামলার সময় কিয়েভের পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোভস্কি জেলায় নয়তলা একটি আবাসিক ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, শহরে ২০ জন আহত হয়েছে।
আর রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনে সামরিক শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে রুশ হামলা চালানো হয়েছে। রুশ বেসামরিক স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি মস্কোর।
রাতে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদর অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। ক্রাসনাদোরের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ বলেন, ‘এবারের ড্রোন হামলাটি ছিল সবচেয়ে দীর্ঘ ও ব্যাপকতমগুলোর একটি।’
হামলায় ছয়জন আহত হয় বলে জানা গেছে।
আর রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতে তারা রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ও অধিকৃত ক্রাইমিয়া উপদ্বীপের আকাশে ২৪৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, দেশটির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র একটি উড়োজাহাজ মেরামত কারখানা, একটি ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র, একটি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ও একটি জ্বালানি তেল টার্মিনালে আঘাত হেনেছে।
শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে রুশ কর্মকর্তারা এখনো বেশ রয়েসয়ে মন্তব্য করছেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, মস্কো এ শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
তবে ইউরোপীয় নেতাদের বক্তব্য হলো শান্তির পথে যাত্রা অনেক দীর্ঘ হতে পারে।