চীন-জাপান উত্তেজনা: সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জে কোস্টগার্ড পাঠাল বেইজিং

সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ জাপানের দখলে থাকলেও চীন এর সার্বভৌমত্ব দাবি করে। বহুবার এ দ্বীপগুলো ঘিরে মুখোমুখি হয়েছে দুদেশ। তবে এবারের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির মন্তব্যের জেরে। সম্প্রতি তিনি জাপান পার্লামেন্টে দেয়া এক বক্তব্যে জানান, যদি চীন তাইওয়ানে সামরিক হামলা চালায় তবে জাপানও সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।

জাপানের দখলে থাকা সেনকাকু (চীনের ভাষায় দিয়াওইউ) দ্বীপপুঞ্জের জলসীমায় কোস্টগার্ড জাহাজ পাঠিয়েছে চীন। একইসঙ্গে জাপানের বাইরের অংশ ঘেঁষে ড্রোন উড়িয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই বেইজিং এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

রোববার (১৬ নভেম্বর) চীনা কোস্টগার্ড জানায়, তাদের জাহাজগুলো দিয়াওইউ দ্বীপপুঞ্জের জলসীমায় ‘অধিকার রক্ষার’ অভিযান পরিচালনা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দিয়াওইউ দ্বীপপুঞ্জের আঞ্চলিক জলসীমায় চীন কোস্টগার্ডের ১৩০৭ নম্বর জাহাজ বহর টহল দিয়েছে। এটি চীনের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে আইনসম্মত টহল অভিযান।

সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ জাপানের দখলে থাকলেও চীন এর সার্বভৌমত্ব দাবি করে। বহুবার এ দ্বীপগুলো ঘিরে মুখোমুখি হয়েছে দুদেশ। তবে এবারের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির মন্তব্যের জেরে। সম্প্রতি তিনি জাপান পার্লামেন্টে দেয়া এক বক্তব্যে জানান, যদি চীন তাইওয়ানে সামরিক হামলা চালায় তবে জাপানও সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।

এ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন। তাকাইচিকে এ বক্তব্য প্রত্যাহারের ইঙ্গিতও দিয়েছে দেশটি। দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ বলে দাবি করে চীন । ‘পুনরায় একীকরণ’ নামের পরিকল্পনার অধীনে ভূখন্ডটির দখল নিতে চায়। প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারীও দিয়েছে। অন্যদিকে চীনা শাসন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে তাইওয়ানের জনগণ ও সরকার।

এদিকে, রোববার সকালে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ৩০টি চীনা সামরিক বিমান, সাতটি নৌ জাহাজ ও একটি ‘সরকারি’ জাহাজ (যা সম্ভবত কোস্টগার্ড) শনাক্ত করেছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা যায়, তিনটি ড্রোন তাইওয়ান ও জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের দ্বীপগুলোর মাঝামাঝি বিশেষত ইয়োনাগুনি দ্বীপের খুব কাছে উড়ছে। এটি জাপানের সর্বদক্ষিণ-পশ্চিমের জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ ও তাইওয়ানের সবচেয়ে নিকটবর্তী।

দ্বীপটিতে চীনা সামরিক অবস্থান বিরল নয়, তবে এত ঘনঘনও নয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলেও চীনা কার্যকলাপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। শনিবার রাতেই তাইওয়ান জানায়, চীন আবারো ‘যৌথ সামরিক টহল’ চালাচ্ছে, যা তাইওয়ানের আকাশ ও সমুদ্রসীমায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তাইওয়ান তাদের নিজস্ব বিমান ও জাহাজ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নজরদারি করেছে।

তবে এসব বিষয়ে বেইজিংয়ে অবস্থিত জাপান দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

আরও