অ্যান্টার্কটিকের বরফ গলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে
গবেষণা চলছে। এমন দুটি প্রকল্প ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে ও ইউএস অ্যান্টার্কটিক
প্রোগ্রাম। সে সূত্র ধরে থোয়াইটস হিমবাহের তলদেশে বসানো হয়েছিল সেন্সর ও রোবট। সেখান
থেকে এসেছে আশঙ্কাজনক তথ্য।
সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, থোয়াইটস যদি
পুরোপুরি গলে যায়, তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আধা মিটার বেড়ে যাবে। ফলাফলে বিশ্বের অনেক
উঁচু অঞ্চলও ডুবে যাবে। হুমকি হয়ে উঠবে জীব জগতের জন্য।
ধারণা করা হচ্ছে, অতি অল্প গলনও হিমবাহকে
নিয়ে যাবে বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
থোয়াইটস বিশ্বের দ্রুততম গলনশীল হিমবাহ, আকারে
ব্রিটেনের সমান। ‘ডুমসডে গ্লাসিয়ার’ নামে পরিচিত এই হিমবাহ নব্বইয়ের দশক থেকে পর্যন্ত
১৪ কিলোমিটার কমে এসেছে। অবশ্য নতুন গবেষণায় দেখা গেছে গলার হার পূর্বাভাসের চেয়ে কম।
তবে বরফের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফাটল নজরে এসেছে। বিষয়টি এতদিন ধারণা করেননি বিজ্ঞানীরা।
এর আগে আন্ডারওয়াটার ড্রোনের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল
থোয়াইটস গ্লেসিয়ার কোলাবরেশনের অংশ হিসেবে ১৩ জন বিজ্ঞানী অ্যান্টার্কটিকায় গবেষণায়
যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালের শেষ ও ২০২০ সালের শুরুর দিকে ছয় সপ্তাহ অবস্থান করেছিলেন সেখানে।
সম্প্রতি নেচার জার্নালে দুটি আর্টিকেল প্রকাশিত
হয়। প্রথমটি আইসফিনের ওপর ও দ্বিতীয়টি সেখানকার গর্তের ধরন ও প্রকৃতির ওপর। আইসফিন
নিয়ে লেখা গবেষণাপত্রের লেখকদের একজন অধ্যাপক ডেভিড ভন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এক্ষেত্রে
পথিকৃতের ভূমিকা পালন করছেন।
ডেভিড ভন বলেন, বরফে ফাটলের মতো অংশে উঞ্চ
পানি প্রবেশ করছে, ফলে প্রতি বছরই ফাটলের আকার বাড়ছে।
ফাটল নিয়ে এ মুহূর্তে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত
বলে মনে করেন অন্য লেখক ব্রিটনি স্মিড।