ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। জেন জি-নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং ছাত্র ও অধিকারকর্মীদের একটি পৃথক জোট আজ নতুন করে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু করেছে। বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছে তারা। খবর রয়টার্স।
প্রভাবশালী সিজেপি আজ মুম্বাইয়ে সমাবেশ করবে। আগামী কয়েক দিনে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে দলটির। অন্যদিকে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হবে ছাত্র ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন।
দিল্লির বিক্ষোভস্থলে আজ সকালে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে জড়ো হতে দেয়া যায়। তবে পুলিশ তাদের কয়েকজনকে বাসে তুলে নিয়ে যায়। আশপাশের কয়েকটি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
লাউডস্পিকারে পুলিশ বারবার পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত না করার সতর্কতা দেয়। ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা বিক্ষোভস্থলের চারপাশে শত শত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
ঋষভ সিং নামের এক বিক্ষোভকারীকে পুলিশ একটি বাসে তুলে নেয়। এসময় তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভ আমাদের মৌলিক অধিকার। ভোট চুরির বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে জবাব চাই।’
মুম্বাইয়ে আজ বিকালে বিক্ষোভকারীদের জড়ো হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে শত শত পুলিশ সদস্যকে জড়ো হতে দেখা গেছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলমান বিরোধকে আরো তীব্র করেছে এ বিক্ষোভ। দেশটির দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসা নির্বাচন কমিশন এখন নজিরবিহীন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এমনভাবে ভোটার তালিকা পরিবর্তন করেছে, যাতে মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পায়। তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকার—দুই পক্ষই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত মাসে ভারতের সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে চাপ আরো বেড়ে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন, ভোটার নিবন্ধন পদ্ধতি এবং কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে দুই সহযোগী নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন বলেছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক।
গতকাল ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে সিজেপির আহ্বায়ক সৌরভ দাস বলেন, ‘পরিবর্তনের জন্য আমরা বারবার বলেছি এবং দাবি জানিয়েছি। কিন্তু সমাজে পরিবর্তন আনার যে একমাত্র হাতিয়ার এখন আমাদের হাতে রয়েছে, সেই ভোট দেয়ার অধিকার যদি আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়, তাহলে কিছুই পরিবর্তন হবে না।’
তিনি বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা এই বিক্ষোভ শেষ করব না।’
গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার যাচাই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেই মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত। সমালোচকদের অভিযোগ, এ কার্যক্রমের কারণে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য, ভোটার তালিকা থেকে একই ব্যক্তির একাধিক নাম, মৃত ব্যক্তি এবং ভোট দেয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিতেই কার্যক্রমটি নেয়া হয়েছে।
এদিকে আজ নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের নতুন করে যোগ্য ভোটারদের নিবন্ধন এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কমিশন তাদের আগের অবস্থান কিছুটা শিথিল করছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোও ৬ অক্টোবর থেকে বিক্ষোভ শুরু করতে যাচ্ছে। তাদেরও দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে।
চলতি বছরের শুরুতে বেকারত্ব ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে অনলাইনে তৈরি হওয়া ক্ষোভ থেকে গড়ে ওঠে তরুণদের আন্দোলন সিজেপি। পরে এটি একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে অপ্রত্যাশিতভাবে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পায়।
অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন দলটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পায়। ওই আন্দোলনের পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মোদি সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।