সৌদি আরব জানিয়েছে, মক্কার দিকে যাওয়ার সময় হুথিদের ছোড়া একটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। অঞ্চলজুড়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের এ পবিত্র শহর ঘিরে এ ঘটনা ঘটল। খবর আল জাজিরা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, গতকাল সন্ধ্যায় সৌদি রয়্যাল এয়ার ডিফেন্স ফোর্স মক্কার সংরক্ষিত আকাশসীমায় ড্রোনটি প্রবেশের আগেই সেটি প্রতিহত করে।
আল-মালিকি এ ঘটনাকে মুসল্লিদের আতঙ্কিত ও বেসামরিক মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা হিসেবে নিন্দা করেন। ‘রেড লাইন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা কোনো পবিত্র স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে না।
নিরাপত্তা সতর্কতা
মক্কায় গতকাল নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে সৌদি আরব। ২০১৭ সালে হুথিরা পবিত্র এলাকাটিকে লক্ষ্য করে সর্বশেষ হামলার চেষ্টা করে। এর পর এই প্রথম মক্কায় এমন সতর্কতা জারি করা হলো।
মক্কায় সম্ভাব্য বিপদের ওই সতর্কতা কয়েক মিনিটের মধ্যেই তুলে নেয়া হয়। সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দা ও তাইফেও একই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবাকে দেয়া এক বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা মক্কা বা অন্য কোনো ইসলামি পবিত্র স্থানের জন্য হুথিদের পক্ষ থেকে কোনো হুমকি রয়েছে—এমন দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইয়েমেন থেকে মক্কা শহর বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানের দিকে কোনো হুমকি রয়েছে—এমন দাবি আমরা পুরোপুরি অস্বীকার করছি।’
তিনি একে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে বর্ণনা ও নিন্দা জানান।
সাম্প্রতিক হামলাগুলো ২০১৫ সালে শুরু হওয়া সংঘাতকে আবারো তীব্র করে তুলেছে। ওই বছর হুথিরা সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এর পর সৌদি আরব ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি যুদ্ধবিরতির ফলে সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের হামলা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে জুলাইয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা এবং দেশটির বাব আল-মানদেব উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আবারো সংঘাত বেড়েছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে সংঘাতে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়। রিয়াদ হুথিদের বিরুদ্ধে দেশটির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ করেছে।
গতকাল সৌদি শহর খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে হুথিদের হামলায় ১৩ জন আহত হওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, শহরাঞ্চলে হুথিদের হামলার জবাব তারা ‘দৃঢ়ভাবে’ দেবে।
মক্কায় সতর্কতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রায় এক দশকের মধ্যে এ প্রথম মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলো।
মক্কায় ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবা শরীফ অবস্থিত। বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মুসলিম প্রতিদিনের নামাজে কাবার দিকে মুখ করে প্রার্থনা করেন।
চলতি বছর মে মাসের শেষ দিকে হজ মৌসুমে সৌদি আরব প্রায় ১৭ লাখ মুসলিমকে স্বাগত জানিয়েছে। ওই সময় দেশটি সরাসরি হামলার ঝুঁকির মধ্যে ছিল।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হজ। জীবনে অন্তত একবার সামর্থ্যবান মুসলিমদের জন্য এই ইবাদত পালন করা আবশ্যক।
সারা বছরই লাখো মুসল্লি ঐচ্ছিক ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় যান।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে ১ কোটি ১৭ লাখের বেশি মুসল্লি ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় গিয়েছিলেন।
২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় ছাড়া হজ কখনো সীমিত করা হয়নি। ওই বছর ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সৌদি আরব বিদেশীদের হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো মক্কায় হজ ও অন্যান্য তীর্থযাত্রায় কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।