জাপান থেকে সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি বন্ধ করছে চীন

ধ্বংসপ্রাপ্ত ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক মিলিয়নের বেশি দূষিত পানি প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলার কাজ শুরু করেছে জাপান। আর এর জেরে জাপান থেকে সব ধরনের সামুদ্রিক খাবার আমদানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে চীন। এছাড়া সমুদ্রে বর্জ্য ফেলার সিদ্ধান্তে অসেন্তোষ তৈরি হয়েছে চীনের জেলে ও সমুদ্রজীবীদের মধ্যেও।

ধ্বংসপ্রাপ্ত ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক মিলিয়নের বেশি দূষিত পানি প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলার কাজ শুরু করেছে জাপান। আর এর জেরে জাপান থেকে সব ধরনের সামুদ্রিক খাবার আমদানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে চীন। এছাড়া সমুদ্রে বর্জ্য ফেলার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে চীনের জেলে ও সমুদ্রজীবীদের মধ্যেও।

দুদিন আগে জাপান সরকার ধ্বংসপ্রাপ্ত প্লান্টটি থেকে পানি অপসারণের ঘোষণা দেয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) দূষিত পানি সাগরে ফেলতে শুরু করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার (টেপকো)। অবশ্য প্রথম দিনে তারা অল্প পরিমাণে পানিই অপসারণ করেছে। টেপকো জানিয়েছে, পানি অপসারণ করতে গিয়ে তাদের কোনো ঝামলা হয়নি।

ধ্বংসপ্রাপ্ত ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দূষিত পানি অপসারণ করে সমুদ্রে ফেলার অনুমতি দিয়েছে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার মনিটররা। সম্পূর্ণ পানি সরাতে টেপকোর ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

তবে বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্ট আশপাশের দেশগুলোর সমুদ্রজীবীরা। গার্ডিয়ানের এক খবরে বলা হয়েছে, চীনের জেলেরা মনে করছেন, সমুদ্রে এত বিশাল পরিমাণ দূষিত পানি ফেললে তাদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেননা সমুদ্র দূষিত হলে তাদের ক্রেতারা সামুদ্রিক খাবার কেনা কমিয়ে বা বন্ধ করে দিতে পারে।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার চীনা শুল্ক সংস্থা বলেছে, খাদ্য নিরাপত্তায় তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকি কমাতে জাপানের দ্রুত পদক্ষেপ চায় তারা। আর এটি না করা হলে অবিলম্বে জাপান থেকে সব ধরনের সামুদ্রিক পণ্য আমদানি বন্ধ করে দেবে তারা।

মূলত সমুদ্রে দূষিত পানি ফেলার বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছে না চীন। তারা একে দেখছে জাপানের স্বার্থপর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফুকুশিমার পারমাণবিক বর্জ্য সমুদ্রে ফেলার সিদ্ধান্ত একটি স্বার্থপর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। এটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অবশ্য দূষিত পানি সমুদ্রে ফেলায় সমুদ্রের পরিবেশ খুব একটা প্রভাবিত হবে না বলেই দাবি জাপানের। জাপানি কর্মকর্তারা বলছেন, দূষিত পানিগুলো সমুদ্রে ছাড়া হচ্ছে একটি টানেলের মাধ্যমে। এমনভাবে কাজটি করা হচ্ছে, যাতে দূষিত পানিগুলো সমুদ্রের তলদেশে চলে যায়। আর জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা এসব বিষয় ভেবেচিন্তেই কাজটির অনুমোদন দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ৯ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে জাপানে সুনামি সৃষ্টি হয়। এতে ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি চুল্লি প্লাবিত হয়। চেরনোবিলের পর এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয় বলে মনে করা হয়।

আরও