যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। তার মুসলিম পরিচয় নিয়ে কয়েক মাস ধরে রিপাবলিকানদের আক্রমণ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে নানা শিবিরে। এল-সায়েদের মতে, ভোটাররা ‘বিদ্বেষপূর্ণ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ প্রচারণা’ প্রত্যাখ্যান করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে যাচ্ছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এপি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘মিশিগান প্রমাণ করেছে, আমরা কতটা বড়। এমন একটি বিদ্বেষপূর্ণ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ প্রচারণা প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কিছু বলার ছিল না। শুধু আমার নাম ও চেহারাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। মিশিগানের মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। অঙ্গরাজ্যের প্রতিটি কাউন্টির ভোটারই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’
মিশিগানের এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী মিসরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম। নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময় তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আক্রমণ চালায় রিপাবলিকানরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে বারবার ‘জিহাদি’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের পক্ষের লোক’ বলে আখ্যায়িত করেন।
গতকাল ভোরে নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এল-সায়েদ বলেন, ‘আমি এখনো অ্যাড্রেনালিন আর ক্যাফেইনের ওপর ভর করে চলছি।’
নির্বাচনে প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে রজার্সের চেয়ে ৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন তিনি। এপির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় মিশিগানের প্রতিটি কাউন্টিতেই ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোটের প্রবণতা বেড়েছে।
জয়ের পর দুই মেয়েকে নিয়ে নিজের অনুভূতির কথাও জানিয়েছেন এল-সায়েদ। তার তিন বছর বয়সী মেয়ে এখনো ঘটনাটি বুঝতে পারেনি। আট বছর বয়সী মেয়ে বিষয়টি বুঝলেও তার কাছে এটি স্বাভাবিক ঘটনা। এল-সায়েদ বলেন, ‘এখন এটি এমন একটি বিষয়, যা তারা ইতিহাসের বইয়ে পড়বে।’
রাজনীতিতে নিজের উত্থান প্রসঙ্গে এল-সায়েদ বলেন, আট বছর আগে মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর এবার প্রাইমারিতে কয়েক কোটি ডলারের ব্যয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থীকে হারিয়েছেন তিনি। তার মতে, ‘পুরনো ধারার রাজনীতিও কার্যকর হতে পারে, যদি কাজটি করার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করা যায়।’
তবে জয়কেই চূড়ান্ত সাফল্য মনে করছেন না তিনি। এল-সায়েদের ভাষায়, ‘জয়ই সাফল্য নয়, এই আসন দিয়ে আপনি কী করতে পারবেন, সেটিই আসল সাফল্য।’
সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা হিসেবে চাক শুমারকে আরেক মেয়াদে সমর্থন করবেন কিনা, সে বিষয়ে অবশ্য কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি এল-সায়েদ। তিনি বলেন, শুমার ছাড়া আর কে নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, তা এখনো জানেন না। তবে তার মতে, ‘আমাদের নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। মানুষও সেটি চায়।’