আবাসস্থল থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে পাঁচ ওরাংওটাং, তদন্ত করছে ভারত

ওরাংওটাং মূলত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার বোর্নিও এবং সুমাত্রা দ্বীপের বৃষ্টিবহুল গভীর জঙ্গলের বাসিন্দা। ফলে এসব দ্বীপ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ভারতের ওড়িশায় পাঁচটি শাবকের সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যটির পরিবেশমন্ত্রী রাম সিং খুনতিয়া জানান, প্রাণীগুলো কীভাবে ভারতে পৌঁছাল, তা জানতে তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওড়িশা রাজ্যের একটি জঙ্গল থেকে পাঁচটি বিপন্ন প্রজাতির ওরাংওটাং শাবক উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাণীগুলো কীভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ভারতে এসেছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তাদের সন্দেহ, এর পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো পাচারচক্র থাকতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ওরাংওটাং মূলত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার বোর্নিও এবং সুমাত্রা দ্বীপের বৃষ্টিবহুল গভীর জঙ্গলের বাসিন্দা। ফলে এসব দ্বীপ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ভারতের ওড়িশায় পাঁচটি শাবকের সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যটির পরিবেশমন্ত্রী রাম সিং খুনতিয়া জানান, প্রাণীগুলো কীভাবে ভারতে পৌঁছাল, তা জানতে তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন।

বালেশ্বর জেলার জলেশ্বর এলাকায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত টহলের সময় শাবকগুলোকে দেখতে পান। কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রাণীগুলো ওই এলাকায় মাত্র কয়েক দিন আগে আনা হয়েছিল। উদ্ধারের পর পাঁচটি শাবককে ওড়িশার একটি চিড়িয়াখানায় নেয়া হয়েছে। সেখানে তাদের আলাদা করে রেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিকভাবে বন্য প্রাণী বেচাকেনা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনডেঞ্জারড স্পিসিজ (সিআইটিইএস)- এর নিয়ম অনুসারে, ওরাংওটাংয়ের বাণিজ্যিক আন্তর্জাতিক বেচাকেনা নিষিদ্ধ। তাই প্রাণীগুলো পাচারের মাধ্যমে ভারতে আনা হয়ে থাকলে সেটি আন্তর্জাতিক বন্য প্রাণী বাণিজ্যবিরোধী আইনের লঙ্ঘন হবে।

বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিলের (ডব্লিউডব্লিউএফ) হিসাবে, বোর্নিও ও সুমাত্রায় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ওরাংওটাং রয়েছে। এক শতক আগে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস ও অবৈধ বাণিজ্যের কারণে প্রাণীগুলোর সংখ্যা কমছে। ওরাংওটাংয়ের আরেকটি প্রজাতি টাপানুলি ওরাংওটাং। এটি আরো আশঙ্কাজনকভাবে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত। বন্য পরিবেশে এ প্রজাতির ৮০০টিরও কম প্রাণী টিকে আছে বলে ধারণা করা হয়।

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে টাপানুলি ওরাংওটাংয়ের ৩৩-৫৪টি মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়। এতে প্রজাতিটির মোট সংখ্যা প্রায় ৭ শতাংশ কমে গেছে। টাপানুলি ওরাংওটাংয়ের পুরো বন্য জনগোষ্ঠী বাতাং তোরুর পশ্চিম অংশের একটি জঙ্গলে বাস করে। খনন কার্যক্রম, পাম অয়েলের বাগান ও একটি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে ওই বনাঞ্চলটিও হুমকির মুখে রয়েছে।

তাই ওড়িশায় পাঁচটি শাবক উদ্ধারের ঘটনায় এখন প্রাণীগুলোর উৎস এবং তাদের ভারতে পৌঁছানোর পথ খুঁজে বের করার পাশাপাশি সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখছেন ভারতীয় তদন্ত কর্মকর্তারা।

আরও