অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আর আলোচনা যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ। তবে এবার রাজনৈতিক কোনো যুক্তিতর্ক নয়, লাইভ টিভি সাক্ষাৎকারে এক সংসদ সদস্যের পোষা কুকুরের কাণ্ড আর উপস্থাপকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা তৈরি করল এক হাস্যরসাত্মক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এ ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত পণ্ড হয়ে যায় বেশ আলোচিত এক সাক্ষাৎকার।
অস্ট্রেলিয়ার এ বি সি চ্যানেলের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৭.৩০’-এ গত সোমবার রাতে অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন দেশটির পরিচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী বার্নাবি জয়েস। উদ্দেশ্য ছিল তার দল ‘ওয়ান নেশন’ এর প্রধান পলিন হ্যানসনের সাম্প্রতিক বিতর্কিত ইউরোপ সফর এবং তার করা বিভিন্ন বক্তব্যের পক্ষে সাফাই গাওয়া।
কিন্তু আলোচনা যখন বেশ জমে উঠেছিল, ঠিক তখনই বাঁধে বিপত্তি। উপস্থাপক সারা ফার্গুসন এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নে জয়েসের কাছ থেকে জানতে চাইছিলেন, তিনি কি তার দলের নেত্রীর চরমপন্থী আদর্শ ও নীতির সঙ্গে পুরোপুরি একমত? আর এ প্রশ্ন চলাকালেই চোখের দৃষ্টি স্ক্রিনের বাইরে রেখে হঠাৎ ক্ষিপ্ত কণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠলেন জয়েস আর বলে ওঠেন, ‘বসো!’
মুহূর্তেই পরিস্থিতি সামাল দিতে জয়েস নিজেই আবার জানিয়ে দেন, ক্ষোভটি উপস্থাপকের ওপর নয়, বরং তার গৃহপালিত কুকুর ‘স্টেলা’র ওপর। বারান্দার নিচে দাঁড়িয়ে কুকুরটি অনবরত ঘেউ ঘেউ করছিল তখন।
তবে উপস্থাপক ফার্গুসন কুকুরের চিৎকার উপেক্ষা করে মূল প্রশ্নের উত্তর দিতে জয়েসকে অনুরোধ করলে তিনি আরো চটে যান। উপস্থাপককে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এভাবে চললে সাক্ষাৎকার এখানেই বন্ধ হয়ে যাবে।
তাছাড়া এবারই প্রথম নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই নিজের নানামুখী কাণ্ডে ভাইরাল হন বার্নাবি জয়েস। ২০১৪ সালে গভীর রাতে ফুটপাতে বেসামাল অবস্থায় শুয়ে থাকার ভিডিও কিংবা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নিজস্ব ঢঙে ধারণ করা ভিডিও দিয়ে অতীতেও শোরগোল ফেলেছিলেন তিনি। এমনকি ২০১৫ সালে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ার কঠোর জৈবনিরাপত্তা আইন ভেঙে কুকুর নিয়ে দেশে ঢোকায় হলিউড তারকা জনি ডেপ ও আম্বার হার্ডকে দিয়ে ক্ষমা চাওয়ানোর ঘটনাতেও তিনি বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়েছিলেন।
—দ্য গার্ডিয়ান থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে