আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি ,আফ্রিকার সমাজ ও অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ

মাত্র ১৫ বছরে সাহারা-দক্ষিণ আফ্রিকায় ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। সংখ্যায় যা ৬ কোটি ৭০ লাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাস, ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬ কোটি ৩০ লাখে।

আফ্রিকা জুড়ে নীরবে এক নতুন সাফল্যের গল্প তৈরি হচ্ছে। কয়েক দশকের অগ্রগতির ফলে এখন মহাদেশটিতে মানুষের আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু দীর্ঘায়ুর এ নতুন বাস্তবতা আফ্রিকার সমাজ ও অর্থনীতিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। খবর এপি।

মাত্র ১৫ বছরে সাহারা-দক্ষিণ আফ্রিকায় ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। সংখ্যায় যা ৬ কোটি ৭০ লাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাস, ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬ কোটি ৩০ লাখে।

সাব সাহারান অঞ্চলটিতে আয়ুষ্কাল বাড়ার পেছনে পুষ্টি, স্যানিটেশন, নিরাপদ পানি, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়া মোকাবেলা, শিশু মৃত্যুহার হ্রাসের বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০০০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত বৈশ্বিক আয়ুষ্কাল বৃদ্ধির শীর্ষ ২০ দেশের সবকটিই আফ্রিকান। তবে যে গতিতে বার্ধক্যে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যা বাড়ছে আসছে, তা ইতিহাসে নজিরবিহীন।

আফ্রিকার সংস্কৃতিতে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান জানানোর প্রথা রয়েছে। পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা আনন্দ ও গর্বের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু আগে কখনো এত বড় পরিসরে বার্ধক্যের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। বহু সাক্ষাৎকার ও গবেষণার তথ্য বলছে, বৃদ্ধরা জীবনের শেষ পর্যায়ে প্রবল দারিদ্র্য ও অবহেলার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী জন্মহার হ্রাস ও আয়ু বৃদ্ধির প্রবণতা চলমান। এমনকি উন্নত দেশগুলোও বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। আফ্রিকার মতো দরিদ্র অঞ্চলে এই চাপ আরো ভয়াবহ হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উগান্ডার চারজন বৃদ্ধের মধ্যে দুজনই চরম দারিদ্র্যে বাস করেন, প্রতিদিন আয় ২ ডলার ১৫ সেন্টেরও কম। মাত্র ৩ শতাংশ বয়স্ক মানুষ ১০ ডলারের বেশি আয় করতে পারেন। তবু আফ্রিকায় অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ বার্ধক্যে গিয়েও শ্রম দিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন।

আফ্রিকায় জন্মহার কমা ও আয়ু বৃদ্ধির ফলে এখন ডিমেনশিয়ার মতো রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি অন্যান্য বয়সজনিত সমস্যাও ভয়াবহ আকারে দেখা দিচ্ছে। চোখের ছানি অপারেশনের অভাবে অনেকে অন্ধ হয়ে যাচ্ছেন। অঞ্চলটিতে বৃদ্ধদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে, স্বাস্থ্যসেবার অভাব প্রবল, আর বয়সজনিত সাধারণ সমস্যাগুলো অযত্নে থেকে গুরুতর অবস্থায় পৌঁছে যায়। ফলে ছানি অপারেশনের অভাবে অন্ধত্ব কিংবা ক্ষুদ্র সংক্রমণ থেকেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

আরও