ইরানে লক্ষ্য পূরণের দ্বারপ্রান্তে ইসরায়েল, তবে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ নয়: নেতানিয়াহু

গাজায় ২০ মাস ধরে চলমান যুদ্ধ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানে চলমান অভিযান গাজায় হামাসবিরোধী লড়াইয়ে সহায়ক হবে। ‘ইরানিয়ান কাঠামো ভেঙে পড়লে সবকিছুই ধসে পড়বে’ বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় বড় ধরনের হামলা চালিয়ে ইসরায়েল তার প্রধান সামরিক লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রোববার (২২ জুন) এক পূর্ব-ধারণকৃত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসরায়েল ‘ধাপে ধাপে’ তার মূল লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগোচ্ছে। লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান থামানো হবে না, তবে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধেও জড়াবে না দেশটি।

তিনি বলেন, আমরা হুমকি সরিয়ে দিচ্ছি, তাদের পেছনে ঠেলে দিচ্ছি। অভিযান কেবল তখনই শেষ হবে যখন আমাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে অর্জিত হবে।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের গোপন পারমাণবিক কেন্দ্র ফোরদোয় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা ‘গুরুতর ক্ষতি’ ঘটিয়েছে। যদিও তিনি হামলার বিস্তারিত বিবরণ দিতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ৪০০ কেজি মজুদের বিষয়ে ইসরায়েলের কাছে ‘গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য’ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, ইরান মাসে ৩০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছিল। তবে গত ১০ দিনে দেশটির অর্ধেকের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হওয়ার পর ইরান ‘পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে ছুটে চলছিল বলেও জানান নেতানিয়াহু। যার ফলে ইসরায়েলের ‘অভিযানে নামা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে’।

এ সময় নেতানিয়াহু জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই হুমকি সম্পর্কে আগেই অবহিত করেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে হামলা চালিয়ে এ ব্যাপারে ‘সঠিক কাজটিই করেছেন’ বলে প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু।

গাজায় ২০ মাস ধরে চলমান যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানে চলমান অভিযান গাজায় হামাসবিরোধী লড়াইয়ে সহায়ক হবে। ইরানিয়ান কাঠামো ভেঙে পড়লে সবকিছুই ধসে পড়বে। তার দাবি, গাজায় যুদ্ধ আজই শেষ হতে পারে, যদি হামাস আত্মসমর্পণ করে, অস্ত্র জমা দেয় এবং সব জিম্মি মুক্তি দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিমুক্তি প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনা চললেও, হামাসের শর্ত ইসরায়েল ও মার্কিন মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফের কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বিবেচিত হয়েছে। নেতানিয়াহু জানান, এখনো মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, ইসরায়েল উইটকফের প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

ইরান-অভিযানকে ঘিরে নেতানিয়াহু বলেন, এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করেন। এ চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

নেতানিয়াহু বলেন, ভবিষ্যতে আমরা এমন সব সহযোগিতা দেখতে পাব যা এখন কল্পনাতীত মনে হতে পারে। কিন্তু তা বাস্তবে পরিণত হচ্ছে।

আরও