ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) বাজারে দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য হারালো মার্কিন জায়ান্ট টেসলা। ২০২৫ সালের বার্ষিক বিক্রয় পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইলন মাস্কের টেসলাকে পেছনে ফেলে বিশ্বের এক নম্বর ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দখল করে নিয়েছে চীনা কোম্পানি বিওয়াইডি। খবর দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
শুক্রবার প্রকাশিত টেসলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কোম্পানিটি মোট ১৬ লাখ ৪০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কম। অন্যদিকে, চীনা প্রতিদ্বন্দ্বী বিওয়াইডি একই সময়ে ২২ লাখ ৬০ হাজার গাড়ি বিক্রি করে বাজার নিজেদের দখলে নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, টেসলার এই ব্যবসায়িক অবনতির পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, রাজনৈতিক বিতর্ক। ২০২৪ সালে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইলন মাস্কের প্রকাশ্য সমর্থন এবং পরবর্তীতে সরকারি দক্ষতা প্যানেলে (ডোজ) যোগ দিয়ে বিপুল সংখ্যক ফেডারেল কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ অনেক গ্রাহককে ক্ষুব্ধ করেছে। এর ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে টেসলার শোরুমগুলোতে বিক্ষোভ এবং বিক্রি কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
দ্বিতীয়ত, কর ছাড়ের সমাপ্তি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর দেয়া ৭ হাজার ৫০০ ডলারের ফেডারেল ট্যাক্স ক্রেডিট বাতিল করে দেয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে টেসলার ওপর।
তৃতীয়ত, তীব্র প্রতিযোগিতা। চীনা বাজারে বিওয়াইডিসহ স্থানীয় কোম্পানিগুলোর সস্তা এবং উন্নত প্রযুক্তির গাড়ির কাছে টেসলা ক্রমশ বাজার হারাচ্ছে।
ব্যবসায়িক মন্দার মাঝেই ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় ধরনের আইনি সংকটে পড়েছে টেসলা। চালকবিহীন ট্যাক্সির নিরাপত্তা নিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে আদালত একটি রায় দিয়েছে। এর ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় টেসলার গাড়ি বিক্রির লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বাজার পুনর্দখলে টেসলা সম্প্রতি মডেল ওয়াই এবং মডেল থ্রি’এর আরো সাশ্রয়ী সংস্করণ বাজারে এনেছে। ইউরোপ এবং এশিয়ার বাজারে চীনের সস্তা গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিতেই এই বিশেষ কৌশল নিয়েছেন মাস্ক।