ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও শিন বেত-এর যৌথ অভিযানে হামাসের সশস্ত্র শাখার মুখপাত্র আবু ওবেইদা গাজায় নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েল দাবি করেছে। গাজা সিটিতে চালানো এক বিমান হামলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। খবর আল জাজিরা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে আইডিএফ এবং শিন বেত-কে এই ‘নিখুঁত অভিযানের’ জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে হামাস এখনো আবু ওবেইদার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি। এর আগে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র দলটি জানিয়েছিল, ইসরায়েলি বিমান হামলায় একটি আবাসিক ভবনে বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, গাজা সিটির ঘনবসতিপূর্ণ আল-রিমাল এলাকার একটি আবাসিক ভবনে চালানো হামলায় শিশুসহ কমপক্ষে সাতজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।
আইডিএফ এবং শিন বেত এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘শিন বেত এবং আইডিএফের গোয়েন্দা অধিদপ্তরের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আবু ওবেইদা ছিলেন হামাস সন্ত্রাসী সংগঠনের জনসমক্ষে থাকা মুখ এবং তিনি হামাসের প্রোপাগান্ডা ছড়াতেন।‘
হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র হিসেবে, ওবেইদা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন। মুখে সবসময় ফিলিস্তিনি স্কার্ফ পরা এই ব্যক্তি মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে হামাস সমর্থকদের কাছে এক আইকনে পরিণত হয়েছিলেন। শুক্রবার দেয়া এক ভাষণে ওবেইদা ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিণতিও হামাস যোদ্ধাদের মতোই হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন।
শনিবারের এই হামলা গাজা সিটিতে ইসরায়েলের পরিকল্পিত অভিযানের ঠিক আগে হয়েছে। আল-রিমাল এলাকার একটি ডেন্টিস্টের চেম্বার হিসেবে ব্যবহৃত ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় দুটি ভিন্ন দিক থেকে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
আইডিএফ দাবি করেছে, এই হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি কমানোর জন্য অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ব্যবহার, আকাশ থেকে পর্যবেক্ষণ এবং পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য।