মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করতে তৎপরতা বাড়িয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের হত্যার পরিকল্পনা ‘অনেক দূরে এগিয়েছে’ বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্পের প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেখা একটি মেমো বা বার্তায় এ তথ্য দেয়া হয়েছে।
জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটনের সতর্কবার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে এল। ইরানের মিত্র হুথি বাহিনীর হামলা বেড়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে কর্মীর সংখ্যা কমিয়ে আনে ওয়াশিংটন।
ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছে প্রায় আট মাস। সাম্প্রতিক সময়ে সম্প্রসারিত এ আঞ্চলিক সংঘাতে হুথিদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও বেড়েছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, ইরানের ভূখণ্ডে ফের বড় পরিসরে মার্কিন হামলা শুরু হলে আগের তুলনায় জোরালো জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান।
২৩ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো বার্তায় ক্লেটন লেখেন, ‘বিশেষ করে, বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছি, যাতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা ইরান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।’
তিনি আরো লেখেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য এবং আরো কয়েকটি দেশে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার লক্ষ্যে ইরানিদের পরিকল্পনা অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছেছে।’
ক্লেটনের বার্তাটি গোপনীয় বা ক্লাসিফায়েড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এর অনুলিপি পেয়েছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)-র পরিচালক জন র্যাটক্লিফও। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এ গোয়েন্দা বার্তার তথ্য প্রকাশ করে।
মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গত বুধবার পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরো কয়েকটি মিশন থেকে কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনেরও বেশি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইরাক ও ইসরায়েল। হুথি বাহিনীর কাছ থেকে বাড়তে থাকা হুমকির কথা উল্লেখ করে এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘দূতাবাসগুলোয় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে পাওয়া নতুন তথ্য আমরা নিয়মিত মূল্যায়ন করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘অঞ্চলটির যেসব মার্কিন দূতাবাস সীমিত কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে, সেগুলোয় কর্মীসংখ্যা সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে হুথি হামলার হুমকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।’
মার্কিন মিশনে পরিচালিত এ ব্যবস্থার নাম ‘রেস্ট্রিকটেড অপারেশনস স্ট্যাটাস’ বা সীমিত কার্যক্রম। এর আওতায় কোনো কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তনের ঘোষণা না দিয়েও কর্মীদের বিষয়ে আরো নমনীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে পররাষ্ট্র দপ্তর।
ইরান যুদ্ধের আট মাস পূর্ণ হতে আর এক সপ্তাহ বাকি। এ সংঘাতের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থনে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি তার জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।