টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলায় দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামো, রেলস্টেশনসহ একাধিক বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, কেশম দ্বীপের আশপাশ, বন্দর আব্বাস ও বুশেহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। বুশেহরে ইরানের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া হরমোজগান প্রদেশের দুটি সেতুতে হামলার খবরও জানানো হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানান, বন্দর আব্বাসে চালানো হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো, রেলস্টেশনসহ একাধিক বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক রসদ সরবরাহ অবকাঠামো এবং নৌ সক্ষমতাসহ কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
বিপরীতে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিমান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আর কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিতে এরই মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে বলে দাবিও করেছে তারা।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত আগের অবরোধ অভিযানে নয়টি জাহাজ অকার্যকর এবং ১৪০টির বেশি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করে মার্কিন বাহিনী।
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা পরিণতি ছাড়া যেতে দেয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরানের উপকূলসংলগ্ন কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইরান দাবি করে, তারা জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন স্থানে ছয় ঘণ্টাব্যাপী হামলা চালিয়েছে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা না করলে কোনো চুক্তি মেনে চলার কারণ তেহরানের নেই। তিনি আরো বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার ওপরই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নির্ভর করছে।