গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে স্পেন। আর এই অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইসরায়েলের চুক্তি স্থগিতে মিত্রদেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাবেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। খবর আল জাজিরা।
সোমবার (২৩জুন) ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা রয়েছে।
আলবারেস বলেছেন, গত ২০ মাসে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ৫৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর জবাবে তিনি ইইউ কাউন্সিলের কাছে চুক্তি স্থগিতের জন্য অবিলম্বে অনুমোদন চেয়ে আহ্বান জানাবেন।
তিনি আরো জানান, ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথে যারা বাধা সৃষ্টি করছে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানানো হবে।
এদিকে, গাজায় চলমান সামরিক অভিযানে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে ইইউ’র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ১১০টিরও বেশি সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়ন।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এই পদক্ষেপ দীর্ঘদিন ধরেই প্রযোজ্য ছিল। বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তির ২ নম্বর ধারায় ইসরায়েলের মানবাধিকার প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়টি ‘গভীর, পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বাসযোগ্য’ ভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
চুক্তির ২ নম্বর ধারা বলছে—মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাই এই চুক্তির মৌলিক ভিত্তি। এই চুক্তি স্থগিত হলে ইইউ-ইসরায়েল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে পূর্বের মতো শুল্ক পুনরায় চালু হবে।
এ দাবির পেছনে অন্যতম কারণ হলো, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের একাধিক নির্দেশনা অমান্য করে ইসরায়েলের গাজায় অভিযানে অটল থাকা। দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলায় আইসিজে নির্দেশ দিয়েছিল, ইসরায়েল যেন গাজায় গণহত্যা ঠেকায় ও জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে দেয়।
ইসরায়েল এসব নির্দেশনা অগ্রাহ্য করেছে, একইসঙ্গে ২০২৪ সালের আইসিজে’র পরামর্শমূলক মতামতও উপেক্ষা করেছে। যেখানে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয় এবং বসতি সম্প্রসারণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলা হয়।