যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন বিভক্ত হয়ে পড়বে: জেলেনস্কি

জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন রাষ্ট্রের জন্য সুনামির মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে এবং ইউক্রেনকে বিভক্ত করে দিতে পারে। তার প্রধান লক্ষ্য এখন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করা হলে দেশটি বিভক্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়া যখন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে এবং আরো ৩ লাখ সেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে, তখন নির্বাচন আয়োজন করা হবে রাষ্ট্রের জন্য বড় ঝুঁকি।

স্থানীয় সময় শনিবার কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি এসব কথা বলেন। ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত রোববার প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের যুদ্ধকালীন নির্বাচন আয়োজনের দাবির জবাবে তিনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানালেন।

জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন রাষ্ট্রের জন্য সুনামির মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে এবং ইউক্রেনকে বিভক্ত করে দিতে পারে। তার প্রধান লক্ষ্য এখন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।

রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেনে মার্শাল ল জারি রয়েছে। এ কারণে দেশটিতে নির্বাচন স্থগিত আছে। জেলেনস্কির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হলেও যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সম্প্রতি পর্যন্ত বড় ধরনের চাপ ছিল না।

তবে গত মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর ফেদোরভ নতুন নির্বাচনের দাবি তোলেন। জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, ফেদোরভকে সরকারে চারটি বিকল্প পদ দেয়ার প্রস্তাব করা হলেও তিনি সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেন। ফেদোরভের নির্বাচনের দাবি ইউক্রেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে জেলেনস্কির নেতৃত্বের প্রতি অন্যতম প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের মিত্ররা যদি নিরাপদ, বৈধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সুনির্দিষ্ট শর্ত নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে তিনি নির্বাচনকে সমর্থন করবেন। এজন্য সম্মুখসারিতে থাকা সেনাসদস্য, যুদ্ধের কারণে বিদেশে অবস্থানরত লাখো ইউক্রেনীয় নাগরিক এবং বাস্তুচ্যুতদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও গোলাবর্ষণের ঝুঁকি ছাড়াই ভোট আয়োজনের মতো নিরাপদ পরিবেশ প্রয়োজন।

-খবর দ্য গার্ডিয়ান

আরও