নিরাপত্তা পরিষদে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা অনুমোদন

নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতার অধিকারী রাশিয়া এবং চীন ভোটাভুটিতে বিরত ছিল, যার ফলে প্রস্তাবটি পাস হতে পেরেছে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত 'বোর্ড অব পিস'-এ অংশ নিতে পারবে, যা গাজার পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার তদারকি করবে। এছাড়াও, আইএসএফ গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।

গাজায় যুদ্ধ সমাপ্তি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী (আইএসএফ) প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সোমবার এ অনুমোদনের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদ ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন জানালো। খবর রয়টার্স।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত 'বোর্ড অব পিস'-এ অংশ নিতে পারবে, যা গাজার পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার তদারকি করবে। এছাড়াও, আইএসএফ গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে। এ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ প্রস্তাবটি পাসের আগে বলেন, এটি ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি করেছে। তিনি আরো বলেন, হামাসের দখলদারিত্বকে ভেঙে দেবে এ প্রস্তাব।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব মানবে না এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের লড়াইকে বৈধ প্রতিরোধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর দেয়া বিবৃতিতে হামাস বলেছে, এ প্রস্তাব গাজার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্বের ব্যবস্থা—যা গাজার জনগণ প্রত্যাখ্যান করে।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এর বাস্তবায়নে অংশ নিতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছে। কূটনীতিকরা মনে করছেন, গত সপ্তাহে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এ সমর্থন রাশিয়ার ভেটো দেয়া থেকে বিরত থাকার অন্যতম কারণ।

নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতার অধিকারী রাশিয়া এবং চীন ভোটাভুটিতে বিরত ছিল, যার ফলে প্রস্তাবটি পাস হতে পেরেছে। বিরত থাকার কারণ হিসেবে রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রস্তাবটিতে গাজার ভবিষ্যতের ব্যাপারে জাতিসংঘের স্পষ্ট ভূমিকার অভাব রয়েছে।

এ প্রস্তাবের ফলে ইসরায়েলে সৃষ্টি হয়েছ বিতর্ক, কারণ এতে ফিলিস্তিনিদের জন্য ভবিষ্যতের রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সংস্কার কর্মসূচি সম্পন্ন করলে এবং গাজার পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে চললে ‘ফিলিস্তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।‘

এ অবস্থায়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ডানপন্থী সদস্যদের চাপের মুখে রোববার জানান, ইসরায়েল ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিরোধিতা বজায় রেখেছে এবং গাজাকে যেকোনো উপায়ে নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকার ধরে রেখেছে।

আরও