যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষ কর্মীদের ভিসা আবেদন ফি ১ লাখ ডলার বাড়ালেন ট্রাম্প

এখন পর্যন্ত এই ভিসায় বিভিন্ন প্রশাসনিক ফি মিলিয়ে প্রায় ১,৫০০ ডলার দিতে হতো।

এ সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত ও অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার ক্ষমতা কমে যাবে। কিছু কোম্পানি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কার্যক্রম স্থাপনের কথা ভাবতে পারে। এছাড়া, এ পদক্ষেপের ফলে উচ্চশিক্ষিত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা এবং কাজের সুযোগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ওপর নতুন করে ১ লাখ ডলারের (প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা) ফি আরোপ করেছেন। এই ফি এখন পর্যন্ত প্রচলিত এইচ-১বি ভিসা প্রক্রিয়ার মোট খরচের চেয়ে অনেক গুণ বেশি— যা বর্তমানে প্রায় ১৫০০ ডলার। খবর বিবিসি।

হোয়াইট হাউসে সই হওয়া ঘোষণায় বলা হয়েছে, এইচ-১বি কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন ধরে ‘অপব্যবহার’ হচ্ছে এবং নতুন নিয়মে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান না করলে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না।

এখন পর্যন্ত এই ভিসায় বিভিন্ন প্রশাসনিক ফি মিলিয়ে প্রায় ১,৫০০ ডলার দিতে হতো। কিন্তু হঠাৎ এতো বড় অঙ্কের ফি বসানোয় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে প্রযুক্তি খাতসহ ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ানো মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, প্রতি বছর এক লাখ ডলার ফি দিয়ে এইচ-১বি ভিসা নিতে হবে, আর বড় বড় কোম্পানিগুলো এতে রাজি আছে। যদি প্রশিক্ষণ দেন, তবে সেটা দিন আমাদের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের। আমেরিকানদের প্রশিক্ষণ দিন, বিদেশীদের এনে চাকরি কেড়ে নেয়া বন্ধ করুন।’

তবে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে ‘মরণঘাতী’ বলছেন অনেকেই। সিয়াটলভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী তাহমিনা ওয়াটসন বিবিসিকে বলেন, এ সিদ্ধান্ত তার অনেক ক্লায়েন্টের জন্য ‘কফিনে শেষ পেরেক’ হবে। তিনি জানান, প্রায় সবাইকে এখন দূরে ঠেলে দেয়া হবে। ১ লাখ ডলার প্রাথমিক ফি দিয়ে শুরু করা মানে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলো কার্যত ধসে পড়বে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত ও অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার ক্ষমতা কমে যাবে। কিছু কোম্পানি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কার্যক্রম স্থাপনের কথা ভাবতে পারে। এছাড়া, এ পদক্ষেপের ফলে উচ্চশিক্ষিত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা এবং কাজের সুযোগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে— যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরের জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজারে নেমে এসেছে—গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সবচেয়ে বেশি ভিসা পেয়েছিল অ্যামাজন; এরপর টাটা, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল ও গুগল।

২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছর এই ভিসার আবেদন সংখ্যা ৮৫ হাজারে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে। আবার ইলন মাস্কের মতো সমর্থকেরা বলেন, এটি বিশ্বসেরা প্রতিভা আকর্ষণের জন্য অপরিহার্য।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। কারণ অনেকেই মনে করেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের বড় পরিবর্তন আনা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার বাইরে। যদি এই নীতি কার্যকর থাকে, তাহলে এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রামটি মূলত একটি 'বিলাসবহুল ওয়ার্ক পারমিটে' হিসেবে পরিণত হবে, যা কেবল কিছু বৃহৎ এবং ধনী কোম্পানির জন্যই সাশ্রয়ী হবে।

আরও