জেন-জি বিক্ষোভে আবার উত্তাল ইউরোপ

তিন দেশে সংঘর্ষ ধরপাকড় ও লুটপাট

এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, ফ্রাঙ্কফুর্টে ‘সহিংস দাঙ্গা’ হয়েছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করেও পেট্রলবোমা ছোড়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের প্রধান বিপণিবিতান-সংলগ্ন সড়কের বড় একটি অংশ বন্ধ করে দেয়া হয়।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন ও তরুণদের দাবি উপেক্ষার প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আবারো রাজপথে নেমেছেন জেনারেশন জেড বা জেন-জি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে দেশগুলোর সরকার। কোথাও কোথাও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। বিশেষ করে ফ্রান্স, জার্মানি ও পোল্যান্ডে বিক্ষোভ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। ফ্রান্সে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জার্মানির কয়েকটি শহরে দোকানপাটে ভাংচুর, লুটপাট ও পেট্রলবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে পোল্যান্ডে সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের প্রধানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রতিবাদে টানা বিক্ষোভ করছেন তরুণরা। খবর রয়টার্স।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত শনিবার ছুটির দিনে দেশজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। ১৭ অক্টোবর দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ হলো এটি। প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের শুরুতে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, বিক্ষোভ থেকে ৫৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন চার পুলিশ সদস্য।

ফ্রান্সে শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি, শ্রেণীকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে এর সঙ্গে যোগ দেয় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনও।

জার্মানির বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখসহ ৩৪টি শহরে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়েছে। ‘জেন-জি রেগেল্ট!’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে এসব কর্মসূচিতে কয়েক হাজার তরুণ অংশ নেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবস্থা ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা চালুর বিরোধিতা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনের পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে প্রায় ১৮ হাজার বিক্ষোভকারী প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। সংগঠকদের ওয়েবসাইটে এ তিন শহরে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের উপস্থিতির দাবি করা হয়েছে। তবে দিনভর বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যায় তা সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। ফ্রাঙ্কফুর্টের বিভিন্ন দোকানপাটে ভাংচুর ও লুটপাট চালান মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, আতশবাজি ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেন তারা। জবাবে পুলিশ জলকামান ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করে।

এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, ফ্রাঙ্কফুর্টে ‘সহিংস দাঙ্গা’ হয়েছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করেও পেট্রলবোমা ছোড়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের প্রধান বিপণিবিতান-সংলগ্ন সড়কের বড় একটি অংশ বন্ধ করে দেয়া হয়। হ্যালোইনের সঙ্গে বিক্ষোভের দিন মিলে যাওয়ায় অনেকে বিচিত্র পোশাকে মিছিলে অংশ নেন। কারো পোশাকে ছিল ডাইনোসর, কারো ব্যাটম্যানের সাজ। তাদের হাতে ‘প্রতিরোধের সময় এখন’ ও ‘মের্ৎসকে বিদায় নিতে হবে’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস।

এদিকে পোল্যান্ডে সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের প্রধান বগদান শভিয়েঞ্চকোভস্কিকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ওয়ারশে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ট্রাইব্যুনালের কর্তৃত্ব নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধী পক্ষের বিরোধের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের অভিযোগ, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নির্বাচিত বিচারকদের ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিচ্ছেন না শভিয়েঞ্চকোভস্কি। সরকারের ভাষ্য, বিচার বিভাগের বৈধতা ও কার্যকারিতা পুনরুদ্ধারে এ সমস্যার সমাধান জরুরি। অন্যদিকে শভিয়েঞ্চকোভস্কিকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করেছে বিরোধী দল আইন ও বিচার পার্টি (পিআইএস)। দলটির নেতারা এ পদক্ষেপকে সাংবিধানিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন।

এছাড়া ইতালিতেও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো, সরকারি সেবা জোরদার ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রতিবাদও জানান তারা। এ বিক্ষোভে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

আরও