‘সুপারসাইজড’ এল নিনো মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো

ভারতের কিছু এলাকায় সেপ্টেম্বরে মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। এতে ধান, ডাল, তুলা ও ভুট্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির ৩৫০টির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় পানি সংরক্ষণ ও জলাধার ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে। কৃষকদের কম পানিতে ও স্বল্প সময়ে উৎপাদনযোগ্য ডাল ও মিলেট চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে

তীব্র এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। চরম তাপ, ভারি বৃষ্টিপাত ও খাদ্য সংকট একসঙ্গে দেখা দেয়ার আশঙ্কায় এ অঞ্চলের কয়েকশ কোটি মানুষ সম্ভাব্য একাধিক সংকটের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

বিভিন্ন আবহাওয়া বিষয় সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এবং ২০২৭ সালে এল নিনো অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে অস্বাভাবিক উষ্ণ সমুদ্র পরিস্থিতির কারণে এবার এল নিনো শক্তিশালী হচ্ছে। একইসঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু সংকটের মধ্যেই এ আবহাওয়া পরিস্থিতির বিকাশ ঘটছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে বলেছে, তীব্র এল নিনোর কারণে প্রায় ৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে।

অন্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও চলতি মাসে বলেছেন, এল নিনো ‘আমাদের চোখের সামনেই সুপারসাইজড হয়ে উঠছে’।

চীনে জলবায়ু ঝুঁকির মানচিত্র

চীনের মূল ভূখণ্ডে আসন্ন চরম আবহাওয়ার প্রস্তুতিতে ১০০ দিনের একটি কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

খরা ও অতিবৃষ্টির মতো বিপরীতমুখী পরিস্থিতি থেকে ফসল রক্ষায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেইজিং আগাম সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। জুলাইয়ে দেশটির শহরগুলোকে বন্যা ও তীব্র তাপের ঝুঁকিতে থাকা এলাকা চিহ্নিত করতে ‘জলবায়ু ঝুঁকির মানচিত্র’ তৈরির জাতীয় পরিকল্পনাও নেয়া হয়।

হংকংয়ে গত ৯ আগস্ট রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পর কর্মক্ষেত্রের নীতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের সময় কর্মীদের কাজের সময়সূচি পরিবর্তন, শীতলীকরণ সরঞ্জাম ও বিশ্রামের সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব সহায়তা দিতে ব্যর্থ হলে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও সুযোগ রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় পানি ও কৃষি সংকট

ভারতের কিছু এলাকায় সেপ্টেম্বরে মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। এতে ধান, ডাল, তুলা ও ভুট্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির ৩৫০টির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় পানি সংরক্ষণ ও জলাধার ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে। কৃষকদের কম পানিতে ও স্বল্প সময়ে উৎপাদনযোগ্য ডাল ও মিলেট চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি আরো সংকটপূর্ণ। এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে থাকা দেশটির ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ পানীয় জলের সংকটে পড়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার শুকিয়ে যাওয়ায় ইয়ালা ন্যাশনাল পার্কের পর্যটন এলাকা বন্ধ করা হয়েছে। প্রাণীদের জন্য জলাধারে ট্যাংকারে করে পানি আনা হচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এল নিনোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দাবানল, ধোঁয়াশা ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি। আঞ্চলিকভাবে ধানের উৎপাদন ৮-১০ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে তাপ ও ঝড়ের প্রস্তুতি

দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তাপপ্রবাহের সতর্কতা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে জরুরি নয় এমন বাইরের কাজ বন্ধের নির্দেশনা কার্যকর হবে।

জাপানও সম্ভাব্য শক্তিশালী টাইফুনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটিতে জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনকে ‘ক্রুয়েলি হট ডে’ বা কোকুশোবি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির সময় জাতীয় মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি আন্ডারপাস আগাম বন্ধের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

আরও