ইরানের বিরুদ্ধে আজ ভোরে ফের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে হামলা চালিয়েছে দেশটি। এতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত আবারো তীব্র হয়ে ওঠেছে। একইসঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি নতুন করে হুমকির মুখে পড়ে। খবর এপি।
সর্বশেষ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে সাম্প্রতিক ইরানি হামলার মাধ্যমে নাজুক যুদ্ধবিরতির কার্যত সমাপ্তি ঘটেছে।
গত মঙ্গলবার ওমান উপকূলের কাছে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর গতকাল ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও বন্দর এলাকায় হামলা চালায়। তখনো ইরান পাল্টা হামলা করেছিল।
তবে আজ ভোরের হামলা আগের তুলনায় বড় আকারের ছিল। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে অন্তত দুই দফা সাইরেন বেজে ওঠে। বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতা আরো দুর্বল করতেই সর্বশেষ হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে বুশেহর, যেখানে ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। এছাড়া চাবাহার, কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও সিরিক বন্দর শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানে বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করেন এবং দেশটিকে আবারো সতর্ক করেন। তিনি লেখেন, ‘গতকাল জাহাজে ইরানের বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে। আবার এমন হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।’
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান হবে না। তিনি বলেন, ‘যা হওয়ার খুব দ্রুতই হবে।’ তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘কাজটি একেবারে শেষও করে দিতে পারে।’
ট্রাম্প আবারো ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং জ্বালানি তেল উত্তোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার হুমকি দেন।
গত মঙ্গলবার তিনটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
ইরানের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদের রয়েছে।
স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান আলোচনার অন্যতম প্রধান আলোচক এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ আজ সকালে এক্সে লিখেছেন, ‘আমেরিকা এখনো বুঝতে পারেনি যে শক্তি দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি আর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের করার পর এখন আর কোনো মূল্য না দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। স্পষ্ট করে বলি—তোমরা হামলা করলে, পাল্টা হামলার মুখেও পড়বে।’
ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যত ‘শেষ’। যদিও তিনি আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও বলেছেন। বারবার হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি আগেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তার বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন আবারো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।