সম্প্রতি সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বাণিজ্য আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। তবে তিনমাস শুল্কবিরতির সম্ভাবনা ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সফলতা আসেনি এ থেকে। আলোচনার এ স্থবিরতাকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক কঠিন বার্তা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর সিএনএন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও কমিউনিস্ট পার্টির কর্তৃত্বের প্রশ্নে চীন আপসহীন। এখন ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ- পারস্পরিক শুল্কবৃদ্ধি স্থগিত রাখার মেয়াদ বাড়ানো, অথবা বাণিজ্য যুদ্ধ ফের শুরু করা।
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শেষে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্টকে কেবল তথ্য দেব, সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।’ রেয়ার আর্থ রফতানি নীতিতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
চীনের ভাইস-প্রিমিয়ার হে লিফেং বলেছেন, আলোচনা ছিল গঠনমূলক, উভয় পক্ষই পারস্পরিক শুল্ক স্থগিত রাখার মেয়াদ ৯০ দিন বাড়াতে আগ্রহী।
ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের সঙ্গে একতরফা শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাভজনক কিছু কাঠামোগত বাণিজ্যচুক্তি করেছেন ট্রাম্প, যা রাজনৈতিকভাবে তার পক্ষে এসেছে। ইউরোপীয় নেতারা পর্যন্ত এই চুক্তিকে আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখেছেন। বিশেষ করে ইউরোপের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ ও ন্যাটো বাজেটে ২০৩৫ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি আদায়কে ট্রাম্প নিজের জয়ের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
তবে চীনের সঙ্গে এমন কিছু হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজের নেতৃত্বকে চীনা জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় মর্যাদা পুনরুদ্ধারর উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন। ফলে ট্রাম্পের সামনে নতিস্বীকার করা তার পক্ষে অসম্ভব। চীনের কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা ইইউ’র ২৭ দেশের বিভক্ত কাঠামোর চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল ও কৌশলী।
সেইসঙ্গে চীনের হাতে ‘রেয়ার আর্থ’ উপাদানগুলোর মতো এমন শক্তিশালী অস্ত্র আছে, যা মার্কিন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে। গত এপ্রিলের ট্রাম্প-ঘোষিত শুল্কযুদ্ধের পর চীন এই উপাদানের রফতানি সাময়িকভাবে বন্ধও করে দিয়েছিল।
জার্মান মার্শাল ফান্ডের সিনিয়র ফেলো ব্রুস স্টোকস বলেন, ট্রাম্পের এখন অন্যতম লক্ষ্য বেইজিং সফরে গিয়ে শি’র সঙ্গে সমঝোতা অর্জন, যা তার ব্যক্তিগত ইমেজ ও প্রচারণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চীনের বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পকে ‘ম্যানিপুলেট’ করা সম্ভব। তবে চীনা কূটনৈতিক রীতিনীতির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিকেন্দ্রিক ‘ডিলমেকিং’ ধারা সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। চীন যেখানে নিচু পর্যায়ে চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করে নেতাকে রক্ষা করতে চায়, ট্রাম্প সেখানে প্রেসিডেন্ট লেভেলের ‘ফটো-অপ’ ও চূড়ান্ত নাটকীয় ঘোষণা পছন্দ করেন।