হিসাবে ‘গরমিল’, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়াতে পারে ৫০ বিলিয়ন ডলার
এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট খরচ হয়েছে ২৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে এমন হিসাব তুলে ধরেছেন এক শীর্ষ পেন্টাগন কর্মকর্তা, যা আসলে বাস্তবের তুলনায় অনেক কম। এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মেরামত ব্যয় ধরা হয়নি বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, ধ্বংস হওয়া সামরিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের খরচ যুক্ত করলে প্রকৃত ব্যয় ৪০-৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি হতে পারে।
যুদ্ধের শুরুর প্রথম কয়েক দিনে ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে অন্তত নয়টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কাতারের স্থাপনায় এসব হামলা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাডার ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামও ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে জর্ডানে একটি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার এবং ইউএইর দুটি স্থাপনায় একই ধরনের রাডার সংবলিত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় একটি ই-থ্রি সেন্ট্রি বিমান ধ্বংস হয়েছে।
ছবি: ডিফেন্স নিউজ
পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস জয় হার্স্ট থ্রি গত বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটিকে জানান, ২৫ বিলিয়ন ডলারের যে হিসাব দিয়েছেন, তার ‘বেশিরভাগই’ গোলাবারুদের পেছনে ব্যয় হয়েছে। তবে এ হিসাবের মধ্যে ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের খরচ অন্তর্ভুক্ত আছে কি-না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না ২৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে একে ‘পুরোপুরি ভুল’ বলে মন্তব্য করেন। এর আগে পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। পাশাপাশি চলমান যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সামরিক তহবিল অনুমোদনের অনুরোধও হোয়াইট হাউজের কাছে জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে বাজেট সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে হার্স্ট বলেন, বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির ‘চূড়ান্ত হিসাব এখনো নেই’। এগুলো কীভাবে বা আদৌ পুনর্নির্মাণ করা হবে, তার ওপরই ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করছে।
তিনি আরো বলেন, পেন্টাগনের ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেটে এই মেরামত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ ভবিষ্যতে কী ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
হার্স্ট উল্লেখ করেন, এসব স্থাপনা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও কিছু ব্যয় বহন করতে পারে। তিনি বলেন, ‘তাই ঠিক কত খরচ লাগবে, সে বিষয়ে আমাদের নির্ভরযোগ্য কোনো হিসাব এখনো নেই।’
২০২৭ সালের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি বর্তমান বাজেটের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন