পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অক্ষুণ্ন রাখার ঘোষণা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার

৫ আপডেট
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

    পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অক্ষুণ্ন রাখার ঘোষণা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রক্ষা করা হবে এবং এগুলোকে কোনোভাবেই ভেঙে ফেলার সুযোগ দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ সক্ষমতা বিলুপ্ত করার যে আহ্বান এসেছে, তার প্রেক্ষিতে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, ইরানের জনগণ পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখে। পানি, ভূমি ও আকাশসীমার মতোই এসব সক্ষমতাকে রক্ষা করা হবে। এ সক্ষমতা শুধু সামরিক শক্তির প্রতীক নয়, বরং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

    মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকেই দায়ী করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদেশি শক্তির উপস্থিতি নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে তিনি আমেরিকার পুতুল ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘাঁটির নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতাও সীমিত। ফলে এদের ওপর নির্ভর করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

    তিনি আরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরও ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অটুট রয়েছে এবং দেশটির বাহিনী দৃঢ়তা, সতর্কতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। এ অভিজ্ঞতা ইরানি জনগণের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    খামেনি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবমুক্ত। তার ভাষায়, এ অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হবে এমন এক ভবিষ্যৎ, যেখানে আমেরিকার উপস্থিতি থাকবে না; বরং তা হবে আঞ্চলিক জনগণের উন্নয়ন, স্বাচ্ছন্দ্য ও সমৃদ্ধির সেবায় নিয়োজিত।

    এ প্রসঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন বাস্তবতার কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার ব্যর্থতা এ পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ১৬২২ সালে পর্তুগিজদের উৎখাতের ঘটনাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অতীতে বহু শক্তির আগ্রহ ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতি নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।

  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

    যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ‘ব্যর্থ হতে বাধ্য’: ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা আরো বাড়াবে এবং এ পদক্ষেপ লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে।

    এক বিবৃতিতে আজ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কোনো নৌ-অবরোধ বা বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা… ব্যর্থ হতে বাধ্য।’

    তিনি আরো বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ‘শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে ব্যর্থই হবে না, বরং বাস্তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার উৎস হয়ে উঠবে এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করবে’।

    সূত্র: বিবিসি

  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

    অবরোধ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১২৬ ডলার

    ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে—ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন সতর্কবার্তার পর গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে ওঠে আসে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

    মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের মূল্য। বর্তমানে অবশ্য কিছুটা কমে এসেছে।

    রাশিয়ার ২০২২ সালের ইউক্রেন আক্রমণের পর এ প্রথম ব্রেন্ট ১২০ ডলারের ওপরে গেল; তখন এটি সর্বোচ্চ প্রায় ১৩৯ ডলারে পৌঁছেছিল।

    ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ দীর্ঘায়িত হতে পারে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখে প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে ইরান।

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা শেষ পর্যন্ত হয়নি, ফলে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

    ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ‘শিগগিরই মত বদলাতে হবে হবে’ এবং তেল কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ‘মাসের পর মাস অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার’ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, অবরোধের কারণে ইরানের জ্বালানি তেল উত্তোলন ও রফতানি ব্যাহত হয়ে মজুদ পূর্ণ হলে তারা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে।

    ট্রাম্প আরো বলেন, ‘বোমাবর্ষণের চেয়ে অবরোধ বেশি কার্যকর, তারা ফেঁসে যাচ্ছে।’

    অর্থনীতিবিদদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস সতর্ক করেছে, ছয় মাসের সংকটে দাম ১৯০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

    বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বাড়বে।

    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

    হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারে নতুন জোট গঠনের চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের

    হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কূটনৈতিক বার্তায় (কেবল) এ-সংক্রান্ত তথ্য দেখতে পেয়েছে রয়টার্স।

    গত মঙ্গলবারের ওই বার্তায় বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট (এমএফসি) গঠনের অনুমোদন দিয়েছেন। একে পররাষ্ট্র দপ্তর ও প্রতিরক্ষা বিভাগের (পেন্টাগন) একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    কেবলে বলা হয়, এমএফসি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত-পরবর্তী সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ। এই কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অবকাঠামো সুরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা বজায় রাখতে অপরিহার্য।

    কেবলের তথ্যানুযায়ী, এ উদ্যোগের পররাষ্ট্র দপ্তর অংশীদার দেশ এবং শিপিং শিল্পের মধ্যে একটি কূটনৈতিক সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে পেন্টাগন-নেতৃত্বাধীন অংশটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম সদর দপ্তর থেকে পরিচালিত হবে এবং নৌযান চলাচল সমন্বয় করবে ও হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবে।

    আরো বলা হয়েছে, ১ মে’র মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোকে অংশীদার দেশগুলোর কাছে মৌখিকভাবে প্রস্তাবটি পৌঁছে দিতে হবে। তবে বাদ থাকবে রাশিয়া, চীন, বেলারুশ, কিউবা এবং ‘অন্যান্য মার্কিন বিরোধী দেশগুলো’।

    কূটনীতি, তথ্য বিনিময়, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, নৌ উপস্থিতি বা অন্যান্য সহায়তার মাধ্যমে এ উদ্যোগে অংশ নেবে দেশগুলো।

  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

    প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ইরানি ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

    মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের প্রায় ‘অর্ধ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি’ মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করেছে ওয়াশিংটন। আর ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ তেহরান সরকারের কার্যক্রমে ‘সংকট’ তৈরি করেছে।

    ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করতে সক্ষম হয়েছি, এরপর সম্প্রতি আরো ১০০ মিলিয়নের মতো নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা এখন প্রায় অর্ধ বিলিয়নের কাছাকাছি আছি এবং আমরা সর্বত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্টও অবরুদ্ধ করছি।’

    তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের মার্চে এ অর্থনৈতিক চাপের অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং প্রায় তিন সপ্তাহ আগে তাকে ‘চাপ আরো বাড়াতে’ বলেন।

    বেসেন্ট আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বিদেশী সরকার ও কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ দিচ্ছে যেন তারা ইরানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে।

    তিনি জানান, ইরানি জ্বালানি তেল কেনে এমন দেশের শিল্প খাত এবং ব্যাংকগুলোর ওপর সেকেন্ডারি স্যাংশন দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।

    মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরো দাবি করেন, এ অর্থনৈতিক অভিযান এবং ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানের অর্থনীতিতে স্থায়ী ক্ষতি করবে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের উপহাস করেছে ইরান। তারা বলেছে, এটি শুধু জ্বালানি তেলের দামই বাড়িয়ে দেবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্স পোস্টে বেসেন্টের মন্তব্যকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

হিসাবে ‘গরমিল’, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়াতে পারে ৫০ বিলিয়ন ডলার

এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট খরচ হয়েছে ২৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে এমন হিসাব তুলে ধরেছেন এক শীর্ষ পেন্টাগন কর্মকর্তা, যা আসলে বাস্তবের তুলনায় অনেক কম। এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মেরামত ব্যয় ধরা হয়নি বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, ধ্বংস হওয়া সামরিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের খরচ যুক্ত করলে প্রকৃত ব্যয় ৪০-৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি হতে পারে।

যুদ্ধের শুরুর প্রথম কয়েক দিনে ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে অন্তত নয়টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কাতারের স্থাপনায় এসব হামলা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাডার ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামও ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে জর্ডানে একটি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার এবং ইউএইর দুটি স্থাপনায় একই ধরনের রাডার সংবলিত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় একটি ই-থ্রি সেন্ট্রি বিমান ধ্বংস হয়েছে।

ছবি: ডিফেন্স নিউজ

পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস জয় হার্স্ট থ্রি গত বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটিকে জানান, ২৫ বিলিয়ন ডলারের যে হিসাব দিয়েছেন, তার ‘বেশিরভাগই’ গোলাবারুদের পেছনে ব্যয় হয়েছে। তবে এ হিসাবের মধ্যে ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের খরচ অন্তর্ভুক্ত আছে কি-না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না ২৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে একে ‘পুরোপুরি ভুল’ বলে মন্তব্য করেন। এর আগে পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। পাশাপাশি চলমান যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সামরিক তহবিল অনুমোদনের অনুরোধও হোয়াইট হাউজের কাছে জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে বাজেট সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে হার্স্ট বলেন, বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির ‘চূড়ান্ত হিসাব এখনো নেই’। এগুলো কীভাবে বা আদৌ পুনর্নির্মাণ করা হবে, তার ওপরই ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করছে।

তিনি আরো বলেন, পেন্টাগনের ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেটে এই মেরামত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ ভবিষ্যতে কী ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

হার্স্ট উল্লেখ করেন, এসব স্থাপনা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও কিছু ব্যয় বহন করতে পারে। তিনি বলেন, ‘তাই ঠিক কত খরচ লাগবে, সে বিষয়ে আমাদের নির্ভরযোগ্য কোনো হিসাব এখনো নেই।’

২০২৭ সালের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি বর্তমান বাজেটের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সূত্র: সিএনএন

আরও