ল্যুভরে ডাকাতি

চোর ধরা পড়লেও লুট হওয়া অলঙ্কার ফেরত পাওয়া ‘প্রায় অসম্ভব’

রত্নগুলো ছোট করে কেটে বা সোনাকে গলিয়ে ফেলার পর এগুলোর উৎস চিহ্নিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

‘আমি যদি ভ্যান গঘের কোনো চিত্র চুরি করি, সেটা ভ্যান গঘই থাকবে—বিক্রি করা কঠিন। কিন্তু গয়না চুরি করলে সেটি টুকরো করে সহজেই বাজারে বিক্রি করা যায়।‘

প্যারিসের বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর থেকে ফরাসি রাজমুকুটের গয়না চুরির ঘটনার পর ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বলছে, চোরেরা ধরা পড়তে পারে, কিন্তু মূল্যবান রত্ন ও সোনার অলঙ্কার ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব। খবর রয়টার্স।

ইউরোপজুড়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক সংকটে থাকা জাদুঘরগুলোর ওপর হামলা বাড়ছে। অপরাধ চক্রগুলো মূলত সোনা ও রত্ন চুরি করছে, যেগুলো সহজেই গলিয়ে বা কেটে বিক্রি করা যায়।

বার্সেলোনাভিত্তিক সাংস্কৃতিক সম্পদ অপরাধ বিশেষজ্ঞ মার্ক বালসেলস বলেন, ‘আমি যদি ভ্যান গঘের কোনো চিত্র চুরি করি, সেটা ভ্যান গঘই থাকবে—বিক্রি করা কঠিন। কিন্তু গয়না চুরি করলে সেটি টুকরো করে সহজেই বাজারে বিক্রি করা যায়।‘

তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, চুরি হওয়া গয়নাগুলো দ্রুতই অ্যান্টওয়ার্পের মতো বৈশ্বিক হীরার বাজারে বিক্রি হয়ে যেতে পারে, যেখানে উৎস নিয়ে কেউ বেশি প্রশ্ন করে না। রত্নগুলো ছোট করে কেটে বা সোনাকে গলিয়ে ফেলার পর এগুলোর উৎস চিহ্নিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আর্ট রিকভারি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার মারিনেলো বলেন, ‘চুরি হওয়া শিল্পকর্ম উদ্ধার করা এমনিতেই কঠিন। আর গয়নার ক্ষেত্রে সেটা প্রায় অসম্ভব।‘

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, রত্ন একবার ছোট ছোট পাথরে কাটা হয়ে গেলে সব শেষ। এর পর অক্ষত অবস্থায় ঐতিহাসিক রত্নখণ্ডগুলো আর কখনোই ফিরিয়ে আনা যাবে না। পুলিশ এখন স্পষ্টতই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। কারণ, চোরেরা ধরা পড়ার আগে যদি লুটের জিনিস ফেলে দেয় বা নষ্ট করে ফেলে, তবে তা চিরতরে হারিয়ে যাবে।

আরও