নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৪৬৯ এবং তিব্বতে তিনজন নিহত হয়েছেন। গত বুধবারের ওই দুর্যোগে দুই এলাকায় এখনো ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপাল ও চীনে অভিযান চলছে। খবর এপি।
নেপাল পুলিশ আজ সকালে জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যায় ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে নেপালে ৩৯০ জন ও তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল থেকে কয়েকশ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। তাদের অনেকেই ট্রেকার ও তীর্থযাত্রী।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের নুওয়াকোট জেলার বিভিন্ন ভবন ও সড়ক কাদায় ঢেকে গেছে। গাছের সঙ্গে আটকে আছে ধ্বংসাবশেষ। বেঁচে যাওয়া মানুষদের অনেককেই কাদায় মাখা অবস্থায় দেখা গেছে।
তিব্বতের শিগাতসে প্রিফেকচারে নদীর পাশ দিয়ে যাওয়া দুই লেনের একটি সড়ক পুরোপুরি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। আকাশ থেকে ধারণ করা ছবিতে চীন-নেপাল সীমান্ত এলাকায় একটি হ্রদ তৈরি হয়ে বড় হতে দেখা গেছে। সেখানে সম্ভাব্য বাঁধ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় বিদেশে থাকা নেপালিদের মাঝে স্বজনদের জন্য উদ্বেগ বিরাজ করছে। নিউইয়র্ক শহরের একটি রেস্তোরাঁর মালিক রাজন তামাং জানান, কাঠমান্ডুতে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তার মা ও বোন বন্যায় মারা গেছেন। তার অনেক আত্মীয় ও বন্ধু এখনো নিখোঁজ।
নিউইয়র্কে একটি প্রার্থনা অনুষ্ঠানের পর তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার তখন মাত্র ঘুম থেকে উঠছিল। তারা বন্যার কোনো ধরনের তথ্যও পায়নি। হঠাৎ এই বন্যা চলে আসে। তাদের কেউ নিখোঁজ, কেউ প্রাণ হারিয়েছে, আর মাত্র কয়েকজন বেঁচে আছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বন্যাকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘শক্ত ও ভালোভাবে নির্মিত ভবনগুলোও যেন টুথপিকের মতো ভেসে গেছে।’
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, নেপালের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির প্রয়োজন অনুযায়ী ‘যেকোনো সহায়তা’ দেয়ার প্রস্তাব করেছে।
হিমালয় অঞ্চলের স্যাটেলাইট ছবি নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের একটি হিমবাহের নিচের শিলাস্তর ধসে পড়েছিল। এতে হিমবাহের একটি অংশও ধসে যায়। শিলা ও গলিত পানি নিচের উপত্যকার নদীগুলোয় গিয়ে জমা হওয়ায় পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। একপর্যায়ে কয়েক তলা ভবনের সমান উচ্চতার পানির স্রোত তৈরি হয়ে ভবন, সেতু ও মাটি ভাসিয়ে নিয়ে যায়।