ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি ও বাসিজ কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানির নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম প্রার্থী সায়েদ জালিলি। খবর আল জাজিরা।
তাসনিম বার্তা সংস্থার বরাতে জানা যাচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ডকে ‘ইসলামিক বিপ্লবের লক্ষ্যে গৌরবময় আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন জালিলি।
তিনি দাবি করেন, এ হত্যাকাণ্ড ইরানিদের একই পথে আরো দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে এবং শত্রুর পরাজয় ও অপমানের প্রতিক্রিয়াকে আরো গতিশীল করবে।
অন্যদিকে লারিজানিকে ‘বিপ্লবী’ হিসেবে আখ্যা দেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ আলি আকবর বেলায়াতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপরাধমূলক’ আচরণের তীব্র সমালোচনাও করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, তারা হিসাবে বড় ধরনের ভুল করেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার মূল উদ্দেশ্য দেশটির জনগণকে তাদের শাসকদের উৎখাত করার একটি সুযোগ করে দেয়া।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেন, আইডিএফের অভিযানে আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন। একই অভিযানে নিহত হয়েছেন বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও।
বাসিজ বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাৎক্ষণিকভাবে আলী লারিজানির মৃত্যুর দাবি ঘিরে ধোঁয়াশা হয়েছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে গতকাল মার্কিন হামলায় নিহত নৌসেনাদের স্মরণে লারিজানির হাতে লেখা একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর লারিজানি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোতে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির নিরাপত্তা ও কৌশলগত নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে বাস্তববাদী সমন্বয়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অভিঘাত পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।