ইউক্রেনজুড়ে বিমান হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া

মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনের একাধিক শহরকে লক্ষ্য করে অন্তত ৭২৮টি ড্রোন ও ১৩টি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

ইউক্রেন সবচেয়ে বড় আকাশ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একাধিক শহরকে লক্ষ্য করে অন্তত ৭২৮টি ড্রোন ও ১৩টি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তার। খবর বিবিসি।

এ হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আক্রমণ বলে উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, ‘যখন যুদ্ধবিরতির জন্য নানা চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই রাশিয়া এসব প্রচেষ্টা ধ্বংস করছে।’

মঙ্গলবার রাতের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাটস্ক শহর। এটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিয়েভে সামরিক ও মানবিক সাহায্যের এটি একটি প্রধান রুট। এছাড়া পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ ও রিভনেতেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে আবারো অস্ত্র সরবরাহ করার ঘোষণার পরপরই এ হামলা চালাল মস্কো। গত সপ্তাহে সাময়িকভাবে সেই সহায়তা স্থগিত করেছিল ওয়াশিংটন। মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, সে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ট্রাম্প আগে অবগত ছিলেন না। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘পুতিন আমাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই আসে না। ওনার কাছ থেকে অনেক আজেবাজে কথা শুনতে হয়।’ এ সময় পুতিনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ১০টি ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র দিতে পারে বলে জানিয়েছে মিডিয়া আউটলেট অ্যাক্সিওস। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে এই ইন্টারসেপ্টরগুলো ইউক্রেনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘আমরা খুব একটা বিচলিত নই। ট্রাম্প সব সময়ই কঠিন ভাষায় কথা বলেন।’

ট্রাম্প ও পুতিন নিয়মিত ফোনালাপে থাকলেও যুদ্ধবিরতির পথে তা কোনো বাস্তব অগ্রগতি আনতে পারেনি। আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি একদিনেই যুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারবেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দুই দফা যুদ্ধবিরতি আলোচনা হলেও এরপর আর কোনো বৈঠক হয়নি। কিয়েভ বা মস্কো—দুই পক্ষই এখন কূটনীতিকে কার্যকর সমাধান মনে করছে না।

আরও