হুথিদের লক্ষ্য ইয়েমেনের পার্বত্য অঞ্চল দখল, শেষ মুহূর্তে হামলা বন্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের

ইরান-সমর্থিত হুথিদের চলতি মাসের আকস্মিক অগ্রযাত্রায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন একটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও আরো চাপ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের যুদ্ধে যোগ দিতে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বারবার অনুরোধও এখন পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইয়েমেনের কৌশলগত পার্বত্য অঞ্চল দখলে নিতে গতকাল অভিযান জোরদার করেছে হুথি যোদ্ধারা। এর মাধ্যমে লোহিত সাগরের উপকূলকে সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অবশিষ্ট এলাকাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে তারা। এর মধ্যেই এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ মুহূর্তে হুথিদের ওপর মার্কিন হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর রয়টার্স।

ইরান-সমর্থিত হুথিদের চলতি মাসের আকস্মিক অগ্রযাত্রায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন একটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও আরো চাপ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের যুদ্ধে যোগ দিতে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বারবার অনুরোধও এখন পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজের নতুন করে অনুরোধের পর গত রোববার হুথিদের ওপর বিমান হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সংবাদপত্রটি বলেছে, শেষ মুহূর্তে হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এমনকি তখন উড়োজাহাজে বোমা তোলার কাজ চলছিল।

রিয়াদভিত্তিক সৌদি আরব-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রেসিডেন্ট রশিদ আল-আলিমি গত রোববার ফোনে ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে চারটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। সূত্রগুলোর মধ্যে একজন ইয়েমেনি ও একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেছেন, ওই ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি কোনো সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেননি।

এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গতকাল বলেছেন, সীমিত সময়ের জন্য প্রতিরক্ষামূলক আকাশে থেকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে সৌদি আরবের অনুরোধে তিনি সম্মত হয়েছেন। বৃহত্তর অঞ্চলকে স্থিতিশীল করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কয়েক দশক ধরে ব্রিটেন ও সৌদি আরব ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র। সৌদি আরবের অন্যতম বড় অস্ত্র সরবরাহকারীও ব্রিটেন।

এক ফরাসি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবুতে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো এবং ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা দিতে প্রস্তুত প্যারিস।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী নিয়ন্ত্রণ করছে হুথিরা। চলতি মাসে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারের বাহিনীকে হটিয়ে দেশটির লোহিত সাগর উপকূলও দখল করেছে তারা।

হুথিদের দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরব পার্বত্য অঞ্চলে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে শত শত হামলা চালিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, লড়াইয়ে প্রায় ৭০০ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের ভেতরেই প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। এছাড়া ৩ হাজারের বেশি মানুষ নৌকায় করে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকায় পালিয়েছে।

ইয়েমেনের পাঁচ সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, হুথিরা এখন তাইজ ও লাহিজ—এই দুই প্রদেশের কৌশলগত উচ্চভূমি, যেগুলো কাহবুব পর্বতমালা নামে পরিচিত, দখলের চেষ্টা করছে। এসব এলাকা লোহিত সাগরের উপকূলকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা দক্ষিণাঞ্চল থেকে আলাদা করে রেখেছে।

তাইজ প্রদেশের দুর্গম আল-ওয়াজিয়াহ জেলার উপকণ্ঠে এবং লোহিত সাগরের মুখে বাব এল-মানদেব প্রণালি ও সরকারের ঘাঁটি এডেনের মধ্যবর্তী ভারত মহাসাগরীয় উপকূলের রাস আল-আরায় লড়াই কেন্দ্রীভূত হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে লড়াই বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এক সংকটে পড়েছে। সৌদি মিত্রদের সহায়তা দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ রয়েছে। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ফেব্রুয়ারিতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে শুরু করা ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় যুদ্ধটি আরো বিস্তৃত করতে চান না তিনি।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে দুই মাস হুথিদের ওপর হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর পর ট্রাম্প ওই হামলা বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে ইয়েমেনের সংঘাতের বাইরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও