ভারতে চলমান আন্দোলন নিয়ে অরুন্ধতী রায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচন নিয়ে কেলেঙ্কারি রয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারি রয়েছে এসবের মধ্যে দেশে ব্যাপক বেকারত্ব রয়েছে। সবকিছু এক সঙ্গে মিলে এ ধরনের এক অশ্রদ্ধাশীল কিন্তু গুরুতর বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। রাজার আসল রূপ উন্মোচিত হয়ে গেছে এবং তিনি শক্তি হারিয়েছেন।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক অরুন্ধতী রায়।
চলমান আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, ককরোচরা ফিরে এসেছে এবং বলছে, কয়েকদিনের মধ্যে তারা সারা দেশে বিক্ষোভ করতে যাচ্ছে। কারণ একটি নির্দিষ্ট সংবাদপত্র এমন একটি কেলেঙ্কারি উন্মোচন করেছে যে ভারতের নির্বাচন এখন পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
অরুন্ধতী রায় জানান, এটি আমরা বছরের পর বছর ধরে জানি এবং এ নিয়ে লিখে এসেছি। কিন্তু এখন এক ধরনের শক্ত প্রমাণ সামনে এসেছে।
আন্দোলনে সম্পৃক্ততা নিয়ে তিনি জানান, তরুণদের এ আন্দোলন আমাকে তাদের দিকে টেনেছিল। এ আন্দোলন ছিল আনন্দে ভরা এবং অস্বাভাবিক রসে ভরপুর। আমাকে টেনেছে তাদের ইনস্টাগ্রাম, রিল ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ানো বার্তার এ নতুন পদ্ধতি। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তিল তিল করে গড়ে তোলা ভাবমূর্তিকে ধসিয়ে দিয়েছে।
তিনি জানান, আমি কয়েকজন তরুণ-তরুণীর সঙ্গে কথা বলছিলাম, তখন আমি বলেছিলাম যে ব্রিটিশ আমলে (মহাত্মা) গান্ধী, (ভীমরাও) আম্বেদকর, মাওলানা (আবুল কালাম) আজাদ এবং (জওহরলাল) নেহেরুসহ এসব মানুষ যা যা বলেছিলেন এবং লিখেছিলেন, আজকে কেউ সে কথা বলতে পারবে না, কারণ বললে তাদের জেলে যেতে হবে। বহু মানুষ, বহু শিক্ষার্থী, বহু অ্যাকটিভিস্ট এবং আইনজীবী প্রতিনিয়ত জেল খাটছেন।
তিনি বলেন, আমাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ভয় দেখানো হচ্ছে। গত স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লার প্রাচীর থেকে মোদী বলেছিলেন, সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষ হলো ‘দিমাগি নকশাল’, যার অর্থ বুদ্ধিবৃত্তিক মাওবাদী; আর তার মধ্যে অবশ্যই আমরা সবাই অন্তর্ভুক্ত! এবং আমাদের নাকি একঘরে করে রাখতে হবে। তাই আমার মনে হয় ঔপনিবেশিক শাসনকে দায়ী করাটা এখন একটা জরাজীর্ণ অশ্বকে চাবুক মারার মতো পুরোনো অহেতুক বাহানা।