নিজ মেয়ের মুখে বহু বছর আগে শৈশবের ভয়ানক অভিজ্ঞতা শুনে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া বায়রু। পঁচিশ বছর আগে পিরিনিজ অঞ্চলের নটরডেম দা দে বেতারাম রোমান ক্যাথলিক স্কুল একজন যাজকের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন তার বড় মেয়ে হেলেন পারলাঁ। খবর বিবিসি।
সম্প্রতি প্যারিস ম্যাচ ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৩ বছর বয়সী পারলাঁ জানান, তিনি যখন ১৪ বছরের কিশোরী, তখন একটি গ্রীষ্মকালীন শিবিরে এক যাজক তার ওপর চরম নির্যাতন চালান।
‘ওই যাজক আমার চুল টেনে মেঝেতে টেনে নিয়ে যায়, তারপর লাথি, ঘুষি মারতে থাকে—বিশেষ করে পেটে,’ বলছিলেন তিনি। ‘আমি ভয়ে প্রস্রাব করে ফেলি এবং সারা রাত ভেজা অবস্থায় স্লিপিং ব্যাগে গুটিসুটি মেরে পড়ে ছিলাম।‘
তিনি জানান, এতটা বছর তিনি চুপ ছিলেন কারণ বেতারাম ছিল যেন একটি গোষ্ঠী বা একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে মানসিক চাপ দিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চুপ করিয়ে রাখা হতো। হেলেন পারলাঁ বলেন, এই ঘটনার কথা কখনোই তার বাবাকে বলেননি, এমনকি পরিবারের কারো সঙ্গেই না।
৭৩ বছর বয়সী ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া বায়রু ১৯৯০-এর দশকে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। বায়রু জানান, মেয়ের নির্যাতিত হওয়ার খবর তাকে ‘একজন পিতার হৃদয়ে ছুরি চালানোর মতো’ আঘাত করেছে। তবে তিনি আরো বলেন, ‘একজন রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে আমার চিন্তা কেবল ভুক্তভোগীদের নিয়েই।
২০০৯ সালে নটরডেম দে বেতারামের নাম বদলে ‘লে বো রামো’ হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলটি বায়রুর শক্ত ঘাঁটি দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের পো শহর থেকে মাত্র ২৫ কিমি দূরে। নিজের তিন সন্তানকে এই স্কুলে পাঠিয়েছিলেন বায়রু। এমনকি তার স্ত্রীও সেখানে ধর্মশিক্ষার শিক্ষক ছিলেন।
১৯৯০-এর দশকে বিদ্যালয়টি ঘিরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেও ১৯৯৬ সালে ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে বলা হয়, বেতারাম এমন কোনো স্কুল নয় যেখানে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হয়। কিন্তু পরবর্তী দশকেও এ ধরনের অভিযোগ আসতেই থাকে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ চালু করার পর তা বিস্ফোরক রূপ নেয়। প্রায় ২০০ অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি যৌন সহিংসতার অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের একজন আলাঁ এসকের বিষয়টি নিয়ে বই লিখেছেন। তিনি বলেন, ‘হেলেন পারলাঁর মতো একজন পরিচিত মুখের মাধ্যমে বিষয়টি প্রচারের আলো পেলেও এতে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কণ্ঠ কিছুটা চাপা পড়ে যায়।