নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সসহ পাঁচ দেশ

দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান ব্যাহত করবে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি প্রকল্প

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে ইসরায়েল সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে তুলেছে, যেখানে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করেন। ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজাকে নিয়ে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চান। এসব বসতির পাশাপাশি পশ্চিম তীরে আনুমানিক ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০টি বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল। এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা। খবর বিবিসি।

এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে এবং পরিকল্পনাটি ‘অবিলম্বে প্রত্যাহারের’ আহ্বান জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সব বসতিই অবৈধ। আন্তর্জাতিক চাপের কারণে জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত ই১ এলাকায় বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা কয়েক দশক ধরে আটকে রেখেছিল ইসরায়েল।

ইসরায়েলের অনেক মিত্র দেশ ও ফিলিস্তিনিরা বলে আসছেন, এলাকাটিতে বসতি নির্মাণ হলে ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে’। কারণ এর ফলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হবে এবং পূর্ব জেরুজালেম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

গতকাল প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো ও কানাডা বলেছে, পশ্চিম তীরে যখন চরম অস্থিতিশীলতা চলছে, বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের নজিরবিহীন সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপর গুরুতর বিধিনিষেধ চলছে, তখন এ সিদ্ধান্ত আরো বেশি উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পরিকল্পনাটি শুধু আমাদের শান্তি থেকে আরো দূরে সরিয়ে নেবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থানকেও আরো দুর্বল করবে।

জাতিসংঘের মহাসচিবও আলাদা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ই১ পরিকল্পনা ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য ‘চরম হুমকি’ তৈরি করেছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন।

এর আগে গতকাল যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও এ পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছিলেন। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।

বেদুইন ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি ইসরায়েলি শান্তিকর্মীদের একটি পক্ষও পরিকল্পনাটির বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। এর মধ্যেই বুধবার ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় ৩ হাজার ৪০১ অনুমোদিত আবাসন ইউনিটের মধ্যে ১ হাজার ২৩৪টির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে।

প্রকল্পটির আওতায় পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটারএলাকা রয়েছে।

গত বছরের আগস্টে পরিকল্পনাটি প্রকাশ করেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। কট্টর জাতীয়তাবাদী ও বসতিস্থাপনকারী এ নেতা তখন বলেছিলেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা ‘মুছে ফেলা হচ্ছে’।

দরপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। এর মাত্র কয়েক দিন পর ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে নির্বাচনের আগে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ভবিষ্যৎ কোনো সরকারের পক্ষে সেগুলো বাতিল করা আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে ইসরায়েল সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে তুলেছে, যেখানে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করেন। ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজাকে নিয়ে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চান। এসব বসতির পাশাপাশি পশ্চিম তীরে আনুমানিক ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন।

আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের সরকারগুলো ধারাবাহিকভাবে এসব বসতির সম্প্রসারণের অনুমতি দিয়ে এসেছে।

২০২২ সালের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ডানপন্থী ও বসতিস্থাপনপন্থী জোটের নেতৃত্বে আবার ক্ষমতায় ফেরার পর বসতি সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের সময়ও এ সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকে।

ই১ প্রকল্পের বিরোধীরা সতর্ক করে আসছেন, এটি কার্যত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ করে দিতে পারে। কারণ প্রকল্পটি পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলকে দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করবে এবং রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে যুক্ত করে একটি সংযুক্ত ফিলিস্তিনি নগরাঞ্চল গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত করবে।

আরও