ছুটির দিনে একটু বাড়তি ঘুমে কমতে পারে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি

গত রোববার জার্মানির মিউনিখে ইউরোপীয় সোসাইটি অব কার্ডিওলজির বার্ষিক সম্মেলনে গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়। দেখা গেছে, সপ্তাহের কর্মদিবসে কম ঘুমের ঘাটতি ছুটির দিনে কিছুটা পূরণ করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি প্রায় ৬ শতাংশ কমে। শারীরিকভাবে কম সক্রিয়দের ক্ষেত্রে এ হার ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। আর উইকেন্ডে অতিরিক্ত ১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট ঘুমালে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে প্রায় ৯ শতাংশ।

সারা সপ্তাহ কাজের চাপ। ঘুমও হয় কম। এরপর উইকেন্ড এলে আরো এক-দুই ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেয়াকে এতদিন যারা অনিয়ম ভাবতেন, সেটাই নাকি হার্টের জন্য উপকারী হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার ৪০ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর সাত বছরের গবেষণায় এমন ফলাফল পেয়েছেন গবেষকরা।

গত রোববার জার্মানির মিউনিখে ইউরোপীয় সোসাইটি অব কার্ডিওলজির বার্ষিক সম্মেলনে গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়। দেখা গেছে, সপ্তাহের কর্মদিবসে কম ঘুমের ঘাটতি ছুটির দিনে কিছুটা পূরণ করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি প্রায় ৬ শতাংশ কমে। শারীরিকভাবে কম সক্রিয়দের ক্ষেত্রে এ হার ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। আর উইকেন্ডে অতিরিক্ত ১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট ঘুমালে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে প্রায় ৯ শতাংশ।

এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যাও আছে। ঘুমের সময় স্বাভাবিকভাবেই আমাদের রক্তচাপ কমে। নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি হলে এ প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি অপর্যাপ্ত ঘুম স্ট্রেস হরমোন ও প্রদাহ বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘুমও যেন সীমা ছাড়িয়ে না যায় এদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। ছুটির দিনে খুব বেশি দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে শরীরের স্বাভাবিক বায়োলজিকাল ক্লক বা সার্কাডিয়ান ছন্দে পরিবর্তন আসতে পারে। আর এ পরিবর্তন ‘সামাজিক জেট ল্যাগ’ বিপাকীয় সমস্যা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

যদিও এমন ফলাফল এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালে লন্ডনে একই সম্মেলনে ৯০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর করা আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি উইকেন্ডের অতিরিক্ত ঘুম নেয়া ব্যক্তিদের হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে কম ঘুমানোদের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম।

তবে এখানেই সতর্কতার জায়গা। নতুন গবেষণাটি এখনো সমকক্ষ বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনায় প্রকাশিত হয়নি এবং এটি কারণ-ফলাফল প্রমাণ করে না। গবেষণায় শুধু অতিরিক্ত উইকেন্ডের ঘুম ও উচ্চ রক্তচাপের কম ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ঘুম বেশি পাওয়া মানুষের জীবনযাপন বা অন্য কোনো পার্থক্যও এ ধরণের ফলাফলের পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে।

২০১৯ সালের ৩৬ জনের আরেক গবেষণায়ও বিষয়টি স্পষ্ট হয়। সেখানে একদলকে টানা নয় রাত পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে দেয়া হয়, দ্বিতীয় দল উইকেন্ডে ঘুম পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ পায় এবং তৃতীয় দল প্রতিদিন নয় ঘণ্টা করে ঘুমায়। কম ঘুমানো দুই দলই রাতে বেশি নাশতা করে ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। অন্যদিকে উইকেন্ডে বেশি ঘুমানো দল ঘুমের সময় কিছুটা উন্নতি করলেও আবার কম ঘুম শুরু করলে সেই সুবিধা হারিয়ে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ২০২৪ সালে ৩০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন, যা এ বয়সী বিশ্বের প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ। তাই ঘুমের ঘাটতি থাকলে উইকেন্ডে সামান্য ঘুম পুষিয়ে নেয়া হয়তো উপকারী হতে পারে। কিন্তু বড় ধরনের ঘুমের পার্থক্য তৈরি না করাই ভালো। সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমকে সবচেয়ে উপযোগী ধরা হয়।

—আল জাজিরা থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে

আরও