থাইরয়েড

ত্রিশোর্ধ্ব নারীদের থাইরয়েডের ঝুঁকি বেশি

পুরুষের তুলনায় নারীদের থাইরয়েডের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

পুরুষের তুলনায় নারীদের থাইরয়েডের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের (এটিএ) মতে, ১০০ জনে একজন পুরুষ থাইরয়েডে আক্রান্ত হন, অন্যদিকে ১০০ জনে অন্তত পাঁচ থেকে আটজন নারীর থাইরয়েডের সমস্যা থাকবে। সংস্থাটির গবেষণা অনুসারে, প্রতি আটজন নারীর মধ্যে অন্তত একজন জীবনে একবার হলেও থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হবেন। সাধারণত ৩০ বছর বয়সের পর থেকেই নারীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

থাইরয়েড এমন একটি হরমোন, যেটির ভারসাম্য হারালে পুরো শরীরেরই সুস্থতা বিপন্ন হতে পারে, সেখানে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। নারীদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো দেখা দিলে আগেভাগেই সতর্ক হওয়া জরুরি সেগুলো হলো—

 অকারণ ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি

শরীরে অস্বাভাবিক মাত্রায় ওজন বাড়লে বা কমলে সতর্ক হওয়া জরুরি। হাইপোথাইরয়েডিজ়মে ওজন বাড়ে এবং হাইপারথাইরয়েডিজ়ম হলে ওজন কমে। কারণ হাইপোথাইরয়েডিজ়মে থাইরয়েড হরমোন ঠিকমতো কাজ না করায় বিপাকের হার কমে যায়। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজ়মে থাইরয়েড হরমোন অতি সক্রিয় হয়ে বিপাকের হার বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরের সব ফ্যাট ভাঙতে থাকে। সময়ে সচেতন না হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

 রক্তচাপে অস্বাভাবিকতা

থাইরয়েড হরমোন যেমন বিপাকের হার নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনই হার্টের সঙ্গেও তা যুক্ত। এ হরমোন হৃৎস্পন্দনের গতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। যদি হাইপোথাইরয়েডিজ়ম হয় তবে হৃৎস্পন্দন ধীরগতিতে হবে। ফলে তার প্রভাব পড়বে রক্তচাপেও। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজ়মে হবে ঠিক তার উল্টোটা। তাই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 ক্লান্তিবোধ, মেজাজ পরিবর্তন

হাইপার বা হাইপো—থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিলে শরীরে ক্লান্তিবোধ বেশি কাজ করে। এমনকি থাইরয়েডের প্রভাব পড়তে পারে মস্তিষ্কেও। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজ়মে আক্রান্ত হলে মানুষের মধ্যে হতাশা কাজ করে বেশি। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজ়মে আক্রান্ত হলে উদ্বেগ আর বিরক্তি কাজ করে।

 চুল ও ত্বকের সমস্যা

হাইপোথাইরয়েডিজ়মে চুল ও ত্বক শুষ্ক ভাব আসে। যদি আচমকা দেখেন চুল শুষ্ক হয়ে ভেঙে যাচ্ছে, ত্বক রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে, কিংবা ভ্রুর চুল উঠে যাচ্ছে তবে সতর্ক হোন। হাইপারথাইরয়েডিজ়মেও চুল পড়ার সমস্যা হতে পারে।

 অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরম লাগা

হাইপোথাইরয়েডিজ়মে আক্রান্ত হলে সবসময় অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগে। কারণ তখন শরীরে রক্তসঞ্চালন ধীরগতি হয়ে যায়, তাই ঠাণ্ডা লাগে বেশি। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজ়মে হবে ঠিক এর উল্টো। এ রোগ হলে আক্রান্ত মানুষটি গরম সহ্য করতে পারবেন না।

 শরীরের কিছু অংশে ফোলা ভাব

যদি শরীরের পায়ের পাতায় অতিরিক্ত ফোলা ভাব লক্ষ করা যায় তবে বুঝতে হবে শরীরে পানি জমছে, যা হাইপোথাইরয়েডিজ়মের লক্ষণ হতে পারে।

আরও