শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে

সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হলে এ ব্যাকটেরিয়া অন্ত্র থেকে রক্তপ্রবাহে পৌঁছে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

শিশুদের টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ছোট শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় দূষিত খাবার, পানি বা অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে সহজেই শরীরে ঢুকে পড়তে পারে সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া। অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির অভাবেও এ সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হলে এ ব্যাকটেরিয়া অন্ত্র থেকে রক্তপ্রবাহে পৌঁছে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে শরীরে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণত রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর টাইফয়েডের সুপ্তকাল সাধারণত এক-তিন সপ্তাহ হয়ে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে এটি ৬০ দিন পর্যন্তও হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে রোগের লক্ষণ।

শিশুদের প্রাথমিক লক্ষণ—

শিশুদের ক্ষেত্রে টাইফয়েডের উপসর্গ অনেক সময় ধীরগতি ও সূক্ষ্মভাবে দেখা দেয়। ফলে প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। এর প্রাথমিক ও নির্ভরযোগ্য লক্ষণগুলোর একটি হলো তীব্র জ্বর। শরীরের তাপমাত্রা ৩৯-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০২-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। সেই সঙ্গে কাঁপুনি ও ঘাম হতে পারে, যা সাধারণত নিজ থেকে ভালো হয় না।

প্রতিরোধে অভিভাবকদের জন্য সতকর্তা

টাইফয়েডের সংক্রমণ থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে আগে থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি। নিরাপদ খাবার ও পানির পাশাপাশি হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থেকে অভিভাবকরা শিশুদের টাইফয়েডের ঝুঁকি কমাতে পারেন।

নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করুন: পান করা এবং রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য ফুটানো, ফিল্টার করা বা বোতলজাত পানি ব্যবহার করুন।

সঠিকভাবে হাত ধোয়ায় উৎসাহিত করুন: খাওয়ার আগে ও বাথরুম ব্যবহারের পর শিশুদের সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করান।

রাস্তার পাশের খাবার এড়িয়ে চলুন: বিশেষ করে যেসব এলাকায় টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব বেশি, সেসব জায়গায় রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন।

শিশুকে টিকা দিন: ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য টাইফয়েডের ইনজেকশনযোগ্য টিকা পাওয়া যায় এবং তা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

ফলমূল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিন: এগুলো কলের পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া উচিত।

শিশুদের ক্ষেত্রে টাইফয়েডের লক্ষণ সবসময় স্পষ্টভাবে প্রকাশ নাও পেতে পারে। তাই নিরাপদ পানি ও খাবারের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস এবং প্রয়োজনীয় টিকাদানের বিষয়ে সচেতন থাকাই সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

আরও