কিডনি রোগের ঝুঁকিতে আছেন যারা

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজন দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে (সিকেডি) আক্রান্ত।

উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) থাকা প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজনের সিকেডি রয়েছে। যাদের হার্ট ফেইলিউর রয়েছে, তাদেরও সিকেডি হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

ডায়াবেটিস : ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ খুবই সাধারণ। প্রতি তিনজন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে প্রায় একজন সিকেডিতে ভুগে থাকেন। প্রতিটি কিডনিতে লাখ লাখ ক্ষুদ্র ছাঁকনি থাকে, যেগুলোকে নেফ্রন বলা হয়। ডায়াবেটিসের কারণে দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে কিডনির রক্তনালি ও নেফ্রন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কিডনি ঠিকভাবে রক্ত পরিশোধন করতে পারে না।

উচ্চ রক্তচাপ : উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজনের সিকেডি রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালিগুলোকে সংকুচিত করে, ফলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অন্যান্য রক্তনালির মতো কিডনির রক্তনালিও দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিডনির রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল সঠিকভাবে বের করতে পারে না। এতে শরীরে তরল জমে রক্তচাপ আরো বেড়ে যেতে পারে এবং একটি ক্ষতিকর চক্র তৈরি হয়।

হৃদরোগ : যাদের হার্ট ফেইলিউর রয়েছে, তাদের কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার সিকেডি থাকলে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ হৃদরোগ ও কিডনি রোগ একে অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

পারিবারিক ইতিহাস : দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ অনেক ক্ষেত্রে বংশগত হতে পারে। পরিবারের কোনো নিকটাত্মীয়—যেমন বাবা-মা, ভাই-বোন বা সন্তানের সিকেডি থাকলে আপনারও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।

অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা : অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। আর এ দুটি রোগই দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের প্রধান কারণ। তাই অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগলে সিকেডিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

যাদের এসব ঝুঁকির কারণ রয়েছে, তাদের নিয়মিত কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও