সোরিয়াসিস একটি দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের রোগ। এ রোগ পুরোপুরি নিরাময়ের নির্দিষ্ট কোনো ঘরোয়া পদ্ধতি না থাকলেও নিয়মিত ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উপসর্গ কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে এসব পদ্ধতি চিকিৎসার বিকল্প নয়।
ঘরোয়া যত্নে যা করতে পারেন
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি কমাতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। গোসলের পর পরই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
ওটমিল বা ইপসম সল্ট দিয়ে গোসল: কুসুম গরম পানিতে ওটমিল মিশিয়ে গোসল করলে ত্বকের চুলকানি ও অস্বস্তি কমতে পারে। ইপসম সল্ট বা গোসলের পানিতে সামান্য তেল ব্যবহার করলেও কারো কারো আরাম হয়। তবে অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে চলতে হবে।
অ্যালোভেরা ক্রিম: অ্যালোভেরাযুক্ত ক্রিম ত্বকের শুষ্কতা ও অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেয়া ভালো।
ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখা: শুষ্ক পরিবেশে ত্বকের শুষ্কতা বেড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করে ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখা যেতে পারে।
মানসিক চাপ কমানো: নিয়মিত হাঁটাচলা, পর্যাপ্ত ঘুম, ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সোরিয়াসিসের উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে সতর্কতা: হলুদ থেকে তৈরি কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট ও ওরেগন গ্রেপ থেকে তৈরি কিছু ক্রিম সোরিয়াসিসে উপকারী কিনা, তা নিয়ে গবেষণা সীমিত। এসব উপাদান ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। বিশেষ করে সাপ্লিমেন্ট অন্য ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস
সোরিয়াসিস নিয়ন্ত্রণে সবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো খাদ্যতালিকা নেই। তবে সুষম খাবার খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা উপকারী হতে পারে।
ফলমূল ও শাকসবজি: প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের ফল ও শাকসবজি রাখুন। এগুলো ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস।
শস্যদানা জাতীয় খাবার: সাদা চাল ও পরিশোধিত শস্যের পাশাপাশি লাল চাল, ওটস ও আটার রুটির মতো শস্যদানা জাতীয় খাবার খেতে পারেন। এগুলো খাদ্য আঁশের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার: সামুদ্রিক মাছ, তিসির বীজ ও আখরোটে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এগুলো সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে সোরিয়াসিসের উপসর্গ কমাতে এগুলোর কার্যকারিতার প্রমাণ এখনো সীমিত।
লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত রাখা: অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় কম খাওয়া ভালো। এতে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা সহজ হয়।
পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরের পানির চাহিদা পূরণে নিয়মিত পানি পান করুন। তবে অতিরিক্ত পানি পান করলেই সোরিয়াসিসের উপসর্গ কমে যায়, এমন প্রমাণ নেই।
যেসব খাবারে উপসর্গ বাড়ে, সেগুলো শনাক্ত করা: কারো কারো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর উপসর্গ বাড়তে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দুগ্ধজাত বা গ্লুটেনযুক্ত খাবার পুরোপুরি বাদ দেয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে খাবার ও উপসর্গের পরিবর্তন লিখে রেখে সম্পর্কটি বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে।
অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা: অ্যালকোহল সোরিয়াসিসের উপসর্গ বাড়াতে এবং কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তাই অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা ভালো।
সোরিয়াসিসের উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে, দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বা ত্বকে ব্যথা ও ফাটল দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। ঘরোয়া যত্নের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।