ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা যা রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি হয়ে গেলে ঘটে। যখন অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, বা কোনোটিই, বা যখন শরীর ইনসুলিনের প্রভাবে সঠিকভাবে সাড়া দেয় না তখন এটি বিকাশ লাভ করে। ইন্সুলিন, অগ্ন্যাশয় দ্বারা সংশ্লেষিত একটি হরমোন, শক্তি ব্যবহারের জন্য গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করার চাবিকাঠি হিসাবে কাজ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ টের পাননা যে তারা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট)-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, দেশে মোট ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ। এদের মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ২৬ লাখ আর ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা ৮৪ লাখ।
যে সব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে
- ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া ও পিপাসা লাগা
- দুর্বল লাগা' ঘোর ঘোর ভাব আসা
- ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
- সময়মতো খাওয়া-দাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া
- মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া
- কোনো কারণ ছাড়াই অনেক ওজন কমে যাওয়া
- শরীরে ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলেও দীর্ঘদিনেও সেটা না সারা
- চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব
- বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা
- চোখে কম দেখতে শুরু করা
ডায়াবেটিস প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণে করণীয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাইপ-২ ধরনের ডায়াবেটিসের ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই আগেভাগে সতর্ক থাকলে, শারীরিক পরিশ্রম করলে এবং খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনলে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব। কিন্তু একবার ডায়াবেটিস হয়ে গেলে আর এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।
সুষম ডায়েট
যত ব্যস্ততাই থাকুক শরীরের খেয়াল রাখতে হবে। তার জন্য প্রতিদিনের ডায়েটে সবুজ শাকসবজি, ফাইবার আছে এমন খাবার রাখতেই হবে। মৌসুমি ফল খেতে হবে প্রতিদিন একটি বা দুটি, সেই সঙ্গে প্রোবায়োটিকের জন্য দই খেতে হবে। কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা কমিয়ে ওট্স, ডালিয়া বা কিনোয়া খেতে পারেন। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের জন্য মাছ, বিভিন্ন রকম বাদাম রাখতে হবে ডায়েটে।
শরীরচর্চা
নিয়ম করে দিনে আধ ঘণ্টা হাঁটতে হবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে হলে। দৌড়ানো, স্পট জগিং, সাঁতার, এরোবিক্সের মতো ব্যায়াম ওজনও কমাবে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমিয়ে দেবে। জিমে গিয়ে ভারী ব্যায়াম করার সময় না পেলে ঘরেই অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে যোগাসন শুরু করুন। সারা দিনে ১৫ মিনিট সময়ও শরীরচর্চার জন্য বরাদ্দ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
ধূমপান নয়
ধূমপানের কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে, এটা অনেকেরই অজানা। তবে জেনে রাখা উচিত, টাইপ ২ ডায়াবেটিসের নেপথ্যে ধূমপানও একটি কারণ। ধূমপানের অভ্যাসে রক্তে শর্করা বাড়তে থাকে। এই ডায়াবেটিসের হাত ধরেই কিডনির নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। এমনকি, দৃষ্টিশক্তিও ক্ষীণ হয়ে যায়।
মানসিক চাপ কমান
মনের ওপর চাপ বাড়লেই রক্তে শর্করার মাত্রা দুরন্ত গতিতে বাড়তে শুরু করবে। মানসিক চাপ ও মানসিক অবসাদের মতো সমস্যা শরীরে হরমোন ক্ষরণকে প্রভাবিত করে। হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে গেলে তা ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে।
সময়ান্তরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা
বয়স ৩০ পেরোলেই বছরে অন্তত একবার করে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে নেয়া জরুরি। সেই সঙ্গে থাইরয়েড পরীক্ষা করা জরুরি। তবে শুধু থাইরয়েড নয়, পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোলেস্টেরলের মাত্রাও ঠিক আছে কি না। সে ক্ষেত্রে বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করাতে হবে।