বাংলাদেশের পুরুষেরা যেসব ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তার মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফুসফুসের ক্যান্সার। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপান, তামাক, জর্দা, গুল ইত্যাদির ব্যবহার এ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপায়ী না হয়েও চারপাশের মানুষের ধূমপানের কারণে আপনার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া পরিবেশ দূষণ, বায়ুদূষণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়াও ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষদের দীর্ঘমেয়াদি কাশি। কাশির সঙ্গে রক্ত, ধূমপায়ীদের কাশির নতুন ধরন সন্দেহজনক।
দীর্ঘমেয়াদি জ্বর, ওজন হ্রাস, লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।
সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শে বুকের এক্স-রে, কফ পরীক্ষা করাতে হবে।
বেশি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের প্রয়োজনে বুকের সিটিস্ক্যান, ব্রংকোস্কপি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করতে হবে।
ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধে ধূমপান ও তামাক বর্জন করতে হবে। বায়ুদূষণ কমাতে হবে।
ফুসফুস ক্যান্সারের বিশেষ দিক হলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়ে না। ক্যান্সারের প্রাথমিক অবস্থা বলতে বোঝায় যখন তা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা যায়। ক্যান্সারের স্টেজিং বা ধাপের ওপর ভিত্তি করে রোগীর চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। ক্যান্সারের নির্দিষ্ট স্টেজ অবধি রোগীর অস্ত্রোপচার করা যায়, পরবর্তী সময়ে অন্য চিকিৎসা দেয়া হয়। ফুসফুস ক্যান্সার রোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে। ক্যান্সার চিকিৎসার বৈষম্য কমাতে সচেতনতার বিকল্প নেই। কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত স্ক্রিনিং পদ্ধতি কার্যকর। স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে, অনেক সময় ক্যান্সার হওয়ার আগেই সমস্যা নির্ণয় করা সম্ভব।