গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস সি আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে শিশুর

যদি মায়ের হেপাটাইটিস সি থাকে, তাহলে শিশুরও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তবে গর্ভাবস্থায় শিশুর পরীক্ষা করা হয় না। সাধারণত শিশুর বয়স অন্তত ১৮ মাস হলে পরীক্ষা করা হয়, যদিও কিছু ক্ষেত্রে এর আগেও পরীক্ষা করা যেতে পারে।

গর্ভাবস্থায় আক্রান্ত মা প্রসবের আগে বা প্রসবের সময় শিশুর মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে পারেন। তবে বুকের দুধের মাধ্যমে, একসঙ্গে খাবার খাওয়া, পানীয় ভাগাভাগি করা কিংবা আলিঙ্গনের মতো সাধারণ সংস্পর্শে হেপাটাইটিস সি ছড়ায় না।

চিকিৎসা

হেপাটাইটিস সির চিকিৎসায় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংক্রমণ নিরাময় করতে পারে এবং লিভারের ক্ষতি প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে গর্ভাবস্থায় সাধারণত এ ওষুধগুলো দেয়া হয় না, কারণ গর্ভের শিশুর ওপর এর নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্তান জন্মের পর বা বুকের দুধ খাওয়ানো শেষ হওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করা হয়। হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত মা সাধারণত বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন। তবে যদি স্তনের বোঁটা ফেটে যায় বা রক্তপাত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

গর্ভাবস্থায় নিজের যত্ন যেভাবে নেবেন

 নিয়মিত প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলোআপে থাকুন।

 প্রসব ও চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিজের রোগ সম্পর্কে অবগত রাখা।

 যে ওষুধগুলো সেবন করছেন, সেগুলো সম্পর্কে চিকিৎসককে জানানো। কিছু ওষুধ লিভারের ক্ষতি বাড়াতে পারে।

 চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নতুন কোনো ওষুধ গ্রহণ না করা।

যেসব বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে

 অ্যালকোহল বা মদ্যপান সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা, কারণ এটি লিভারের ক্ষতি বাড়াতে পারে এবং গর্ভের শিশুর জন্যও ক্ষতিকর।

 মাদক, গাঁজা, তামাক ও ভেপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।

প্রতিরোধে করণীয়

 হেপাটাইটিস এ ও হেপাটাইটিস বি-এর টিকা গ্রহণ করা। এ টিকাগুলো গর্ভাবস্থায়ও নিরাপদ।

 সর্দি-কাশি বা অন্যান্য সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

 ক্ষুর, টুথব্রাশ, তোয়ালে বা নখ কাটার যন্ত্র অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি না করা।

 শরীরে কোনো কাটা বা ক্ষত থাকলে তা ঢেকে রাখা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস সি দ্রুত শনাক্ত করা, নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন করা মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও