মেপে দেখা গেল, তার ওজন ৭৫ কেজি। যদিও কিছুটা বাড়বাড়ন্ত শরীর রাতুলের। কিন্তু করোনা মহামারীর আগে অবস্থা এতটা দুশ্চিন্তার ছিল না। লকডাউনে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার ফলে অস্বাভাবিক হারে ওজন বেড়ে গেছে। এই যে বয়সের তুলনায় ওজন বেশি—এটাকেই বলে স্থূলতা বা ওবেসিটি। কেবল রাতুল নয়, বহু শিশুই এর শিকার হয়েছে এখন
ওবেসিটি
ওবেসিটির অর্থ স্থূলতা। তবে এটি দিয়ে কেবল ওজন বৃদ্ধিই বোঝায় না। বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) অনুযায়ী, দেহের উচ্চতার বিবেচনায় ওজন বেড়ে গেলে তখনই তা চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
যেসব কারণে ওজন বাড়ে
শিশুদের মুটিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিষয় দায়ী হতে পারে। যেমন—
বংশানুক্রমিক ধারা
হরমোন
পরিবেশ
জীবনযাপন
খাদ্যাভ্যাস
শিশুদের ওবেসিটির ক্ষেত্রে সাধারণত নিম্নোক্ত জটিলতাগুলো দেখা দেয়—
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়
উচ্চ রক্তচাপ, হৃৎপিণ্ডের সমস্যা ও ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দেয়
হাড় ও গিঁটে ব্যথা হয়
ঘুমের মধ্যে নাকডাকা ও শ্বাসকষ্ট হয়
পিত্তথলিতে পাথর বা প্রদাহ হয়
শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দেখা দেয়
ঘাড় ও ত্বকের ভাঁজে ভাঁজে কালো দাগ দেখা দেয়
অল্প বয়সেই ছেলেদের দাড়ি-গোঁফ ওঠা বা মেয়েশিশুদের মাসিক হওয়ার মতো বিব্রতকর সমস্যা হয়
চর্বি জমে গিয়ে লিভারের স্থায়ী সমস্যা হতে পারে
স্থূলতা রোধে মা-বাবার করণীয়
শিশুর ওজন বৃদ্ধি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে একটি চার্ট রাখতে হবে।
কৌটার দুধ বা কৃত্রিম খাবার খাওয়ালে শিশু দ্রুত মোটা হয়ে যায়। তাই শিশুকে ছয় মাস পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ান। এটি ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিরোধকের মতো কাজ করে।
ছয় মাস বয়স থেকে অন্যান্য খাবার দিতে হবে, যাতে অবশ্যই শাকসবজি, ফলমূল থাকবে। ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, চকোলেট, আইসক্রিম প্রভৃতি বাইরের খাবার যতটা সম্ভব কম দিতে হবে।
শিশুকে নড়াচড়া ও চলাফেরার মধ্যে রাখতে হবে। নিজের কাজ নিজে করতে উৎসাহিত করতে হবে এবং বাইরে খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে হবে।
লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ির ব্যবহার, প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম ও বাড়ির কাজে শিশুর অংশগ্রহণ ইত্যাদি শিশুকে ফিট রাখতে সহায়তা করবে। এসব অভ্যাস করানোর পাশাপাশি স্কুলে বা হাঁটা দূরত্বে গাড়ি বা রিকশা ব্যবহার না করে শিশুকে হেঁটে যাতায়াতের অভ্যাস করান।
শিশু মুটিয়ে যাচ্ছে, এমনটি সন্দেহ হলে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি উচ্চতা ও ওজন মেপে এবং প্রয়োজনে নানা পরীক্ষা করে ঠিক করবেন আপনার শিশু আসলেই ওবেসিটির দিকে যাচ্ছে কিনা।
লেখক: কনসালট্যান্ট, ডিপার্টমেন্ট অব পেডিয়াট্রিক্স অ্যান্ড নিউনেটোলজি
ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল