সাধারণত গর্ভাবস্থায় প্রত্যেক নারীরই কিছু শারীরিক পরিবর্তন হয়। যা সব নারীর ক্ষেত্রে একই রকম নয়। প্রসবের পর অক্সিটোসিন হরমোন জরায়ুকে সংকুচিত করে। তবে অনেক কিছুই তার আগের জায়গায় ফিরে যায় না। অনেকের ওজন, স্ট্রেস মার্ক, ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়ে যায়। প্রধান যে যে শারীরিক পরিবর্তন হয় সেগুলো হলো—
- গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরের হাড়ের সংযোগস্থল ঢিলা হয়ে যায়। হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা হয়।
- পেট ভারী বা শরীরের সামনের অংশ বেড়ে যাওয়ার কারণে পিঠের হাড়ে চাপ তৈরি হয়। পিঠে ব্যথা হতে পারে।
- গর্ভবতী নারীদের অনেক সময় রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়, যাকে বলে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। বেশির ভাগ সময় সন্তান প্রসবের পর এটি চলে যায়।
- দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া, ব্রাশ করার সময় রক্ত বের হওয়া, মাড়িতে ব্যথা হতে পারে।
- জরায়ুর আকার বড় হয়ে যাওয়ার কারণে মূত্রথলিতে চাপ পড়ে। তাই বারবার প্রস্রাব হয়।
- জরায়ুর আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় ফুসফুস পর্যাপ্ত প্রসারিত হতে পারে না। তাই অনেকের শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
- গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, কারণ শরীরে আয়রনের চাহিদা বাড়ে।
- এ সময় নারীর শরীরে তরল উৎপাদন বেড়ে যায়। এতে পায়ে পানি জমে ফোলা ভাব হতে পারে।
- অনেকের উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে।
- হরমোনের কারণে স্তন আকারে বড় হতে থাকে, স্তনবৃন্তের আশপাশ আরো কালো হয়ে ওঠে। শিশুকে খাওয়ানোর জন্য স্তন প্রস্তুত হয়। অনেকে স্তনে ব্যথা অনুভব করেন।
শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি নারীর মনের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করে। এ সময় উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা, মন খারাপ, রাগ, ঘন ঘন মেজাজ বদল এ রকম অনেক কিছু ঘটে নারীর মনে। অনেকে আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন—তারা খুব অল্পতেই কেঁদে ফেলেন, বিরক্ত হন, রেগে যান, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।