মহাসড়কে পর্যাপ্ত ট্রমা সেন্টার থাকলে দুর্ঘটনায় আহতরা দ্রুত চিকিৎসা পাবেন

ডা. গোলাম মাহমুদ (সুহাস)

সহকারী অধ্যাপক

অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)

হাঁটু ও অন্যান্য জয়েন্টে বিভিন্ন কারণে সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে আঘাত, সংক্রমণ, বাত এবং জয়েন্টের আশপাশে টিউমার। আগে আমরা খেলাধুলাজনিত হাঁটুর আঘাতের রোগী বেশি পেতাম। ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল ও ভলিবলের মতো খেলায় অংশ নিতে গিয়ে অনেকে হাঁটু ও লিগামেন্টে আঘাত পেতেন।

বর্তমানে হাড় ও জয়েন্টের সমস্যায় কী ধরনের রোগী বেশি আসছেন?

আমাদের কাছে মূলত দুই ধরনের রোগী আসেন—আঘাতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত এবং হাড় ও জয়েন্টের বিভিন্ন রোগে ভুগছেন এমন রোগী। দুর্ঘটনায় শরীরের ২০৬টি হাড়ের যেকোনোটি ভেঙে গেলে রোগীরা আমাদের কাছে আসেন।

অন্যদিকে, ঘাড়, কোমর, হাঁটু, গোড়ালি ও পায়ের গিঁটে ব্যথার রোগীও বেশি আসেন। এ ছাড়া জয়েন্টে তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ, হাড়ের টিউমার এবং হাড়ের টিভি আক্রান্ত রোগীরাও চিকিৎসা নিতে আসেন। কারও কারও জন্মগতভাবে হাড়ের গঠন ও জয়েন্টে ত্রুটি থাকে, আবার কারও হাড় বাঁকা হয়ে যায়। সেসব রোগীও আসে।

বর্তমানে দুর্ঘটনায় হাড় ভাঙার পাশাপাশি লিগামেন্টে আঘাত পাওয়া রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে হাঁটু ও গোড়ালির লিগামেন্টে আঘাত এবং কাঁধের জয়েন্ট সরে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে রোগীরা আসেন। এ ছাড়া বাত বা সংক্রমণের কারণে অনেকের হিপ, হাঁটু, গোড়ালি ও কাঁধের জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন রোগীরাও আসেন।

হাঁটু ও অন্যান্য জয়েন্টের সমস্যার প্রধান কারণ কী? আগের তুলনায় এসব সমস্যার ধরনে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে?

হাঁটু ও অন্যান্য জয়েন্টে বিভিন্ন কারণে সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে আঘাত, সংক্রমণ, বাত এবং জয়েন্টের আশপাশে টিউমার। আগে আমরা খেলাধুলাজনিত হাঁটুর আঘাতের রোগী বেশি পেতাম। ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল ও ভলিবলের মতো খেলায় অংশ নিতে গিয়ে অনেকে হাঁটু ও লিগামেন্টে আঘাত পেতেন।

বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের মধ্যেও হাঁটু ও হিপ জয়েন্টের বিভিন্ন সমস্যা দেখা যাচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় এসব জয়েন্টে গুরুতর আঘাত লাগতে পারে। ফলে হাড় ভাঙা ও লিগামেন্টের ক্ষতিসহ বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন।

এ ছাড়া বাসাবাড়িতে টাইলসের ব্যবহার বেড়েছে। পিচ্ছিল মেঝেতে পড়ে গিয়ে বয়স্ক ব্যক্তিরা হাঁটু, হিপসহ শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে আঘাত পান। মানুষের গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বয়সজনিত কারণে হাড় ও জয়েন্টের ক্ষয়ের সমস্যাও দেখা দেয়। এ অবস্থায় সামান্য আঘাত বা অল্প উঁচু থেকে পড়ে গেলেও অনেকের হিপ বা হাঁটুর আশপাশের হাড় ভেঙে যেতে পারে। এসব কারণে হাড় ভাঙা ও জয়েন্টের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে।

আমাদের দেশে হাড় ও জয়েন্টের রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কী ধরনের ভুল দেখা যায়?

আমাদের দেশে হাড় ও জয়েন্টের রোগীরা বেশ কিছু সাধারণ ভুল করেন। যেমন, ব্যথা হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া, ব্যথা কমে গেলে চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেও দেরি করা। অনেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে কবিরাজের শরণাপন্ন হন। আবার কেউ কেউ এক্স-রে ও এমআরআইয়ের প্রতিবেদন দেখে নিজেই রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন।

এ ছাড়া ফিজিওথেরাপি অবহেলা করা, অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ফলোআপ না করা এবং এসিএল বা হাঁটুর লিগামেন্টে আঘাতকে সাধারণ মচকানো মনে করাও সাধারণ ভুল। অনেকে বাতের সমস্যাকে শুধু বয়সজনিত ভেবে অবহেলা করেন। একইভাবে, জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলেও অস্ত্রোপচারের ভয়ে পিছিয়ে থাকেন।

এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সমস্যা দেখা দিলে সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা। ব্যথা কমে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা পুনর্বাসন কার্যক্রম বন্ধ করা উচিত নয়।

হাঁটুতে ব্যথা হলেই কি সেটিকে আর্থ্রাইটিস হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক? কোন লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত?

হাঁটুতে ব্যথা হলেই সেটিকে আর্থ্রাইটিস হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হাঁটুর ব্যথার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন, আঘাতের পর হাঁটুতে ব্যথা বা ফোলা দেখা দিলে লিগামেন্ট কিংবা মেনিস্কাসে আঘাতের আশঙ্কা থাকে। সকালে দীর্ঘক্ষণ হাঁটু শক্ত হয়ে থাকলে প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসের ইঙ্গিত হতে পারে।

হাঁটু লাল হয়ে গেলে, গরম অনুভূত হলে এবং তীব্র ব্যথা হলে সংক্রমনের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আবার হাঁটু বারবার আটকে গেলে মেনিস্কাসের সমস্যা থাকতে পারে। হাঁটু হঠাৎ ভেঙে পড়ার মতো অনুভূতি হলে লিগামেন্টের সমস্যার আশঙ্কা থাকে। একাধিক জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলা দেখা দিলেও প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

তাই হাঁটুতে ব্যথা হলে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় না করে উপসর্গের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

হাঁটুর সমস্যার ক্ষেত্রে কখন ওষুধ, ফিজিওথেরাপি বা জীবনযাপনে পরিবর্তন যথেষ্ট, আর কখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়?

হাঁটুর সমস্যার চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন, আঘাতের মাত্রা ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর। হাঁটুতে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হলে, ফুলে গেলে কিংবা গরম অনুভূত হলে অবহেলা করা উচিত নয়। ফুটবল খেলতে গিয়ে, পড়ে গিয়ে কিংবা সড়ক দুর্ঘটনায় হাঁটুতে আঘাত পেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে বা অন্যান্য পরীক্ষা করে সমস্যার কারণ নির্ণয় করতে হয়। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।

অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ, ফিজিওথেরাপি ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের মাধ্যমে হাঁটুর সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের হাঁটুতে ব্যথা থাকলে দৈনন্দিন কাজের ধরন পরিবর্তন করা প্রয়োজন হতে পারে। যেমন, প্রয়োজন অনুযায়ী উঁচু কমোড ব্যবহার, নামাজ পড়ার সময় কষ্ট হলে বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ এবং সিঁড়ি দিয়ে অতিরিক্ত ওঠানামা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারও ওজন বেশি থাকলে তা কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়। তবে এসব পরিবর্তন রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। হাঁটুর সমস্যায় অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে এবং অস্ত্রোপচার ছাড়াও চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অন্যদিকে, হাঁটুর লিগামেন্ট গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, হাঁটুর আশপাশের হাড়—যেমন টিবিয়া, ফিমার বা প্যাটেলা—ভেঙে গেলে কিংবা অন্য চিকিৎসায় সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। হাঁটুতে সংক্রমণ হলে এবং ওষুধে তা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বা জয়েন্টে পুঁজ জমলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করতে হতে পারে।

আবার হাঁটুর জয়েন্টের ক্ষয় এত বেশি হলে যে ব্যথা ও চলাফেরার অসুবিধা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে এবং অন্যান্য চিকিৎসায় পর্যাপ্ত উপকার পাওয়া যায় না, তখন হাঁটু প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।

আমাদের দেশে হাঁটু প্রতিস্থাপন নিয়ে অনেকের মধ্যে ভয় কাজ করে। তবে চিকিৎসকের মূল্যায়নে এ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে রোগীর উপকারিতা, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সঠিক রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর চলাফেরার সক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।

বাংলাদেশে অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জারির সক্ষমতা কতটা বেড়েছে? এ ক্ষেত্রে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে?

গত এক যুগে বাংলাদেশে অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জারিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ সময়ে চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েছে, পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার পরিধি ও সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় দুই হাজার অর্থোপেডিক সার্জন রয়েছেন। তারা বিভাগীয় শহর থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

অর্থোপেডিক সার্জারির বিভিন্ন উপবিশেষায়িত শাখায়ও অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থ্রোস্কোপি, জয়েন্ট প্রতিস্থাপন, স্পোর্টস মেডিসিন, হাড়ের বক্রতা সংশোধন, হাড় ও মাংসপেশির টিউমারের চিকিৎসা এবং শিশুদের হাড় ও জয়েন্টের চিকিৎসা। এসব ক্ষেত্রে দেশে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গড়ে উঠেছে এবং জটিল অস্ত্রোপচার করার সক্ষমতাও বেড়েছে।

আগে জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে দেশে হিপ, হাঁটু ও কাঁধের জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার হচ্ছে। হাঁটুর লিগামেন্টের অস্ত্রোপচারেও অগ্রগতি এসেছে। একইভাবে কাঁধের জয়েন্টের বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে জয়েন্ট সরে যাওয়ার চিকিৎসায় আর্থ্রোস্কোপির ব্যবহার বেড়েছে।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে হাড় ও জয়েন্টের নানা ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে।

রাজধানীর বাইরে এ ধরনের চিকিৎসা কতটা সহজলভ্য? জেলা পর্যায়ে কী কী সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন?

বর্তমানে দেশে অর্থোপেডিক সার্জনের সংখ্যা বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এসব পদে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়েও সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্টরা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের অনেক হাসপাতালে অর্থোপেডিক সার্জারির জন্য সি-আর্ম মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় এ যন্ত্রের সাহায্যে এক্স-রে-ভিত্তিক ছবি পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারে সহায়ক।

আগে এসব পর্যায়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও চিকিৎসাসুবিধা না থাকায় অনেক রোগী কবিরাজ শরণাপন্ন হতেন। তবে এখনো প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসাসুবিধা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জয়েন্ট প্রতিস্থাপন বা কৃত্রিম জয়েন্ট স্থাপনের চিকিৎসা সবার জন্য সহজলভ্য করা সম্ভব হয়নি।

এর অন্যতম কারণ রোগীদের আর্থিক অসংগতি এবং অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত ইমপ্লান্টের উচ্চমূল্য। এসব ইমপ্লান্টের ওপর মূল্য সংযোজন কর আরোপের কারণে খরচ আরও বেড়ে যায় বলে আমরা মনে করি। ফলে অনেক রোগী প্রয়োজন হলেও জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করাতে পারেন না।

জয়েন্ট প্রতিস্থাপন চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। অথচ ব্যয়ের কারণে দেশের অনেক রোগী এ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের কাছে আমার আবেদন, জয়েন্ট প্রতিস্থাপনে ব্যবহৃত ইমপ্লান্টের ওপর মূল্য সংযোজন কর প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হোক। এতে অস্ত্রোপচারের খরচ কমতে পারে এবং আরও বেশি রোগীর জন্য এ চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া দেশের মেডিকেল কলেজ, জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ে অর্থোপেডিক সার্জনের পদ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত জনবল ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পুনর্বাসনসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে চিকিৎসকদের বিভিন্ন অঞ্চলে পদায়ন করা সহজ হবে এবং প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জরুরি চিকিৎসায়। মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, কিন্তু অনেক এলাকায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ট্রমা সেন্টার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। মহাসড়ককেন্দ্রিক পর্যাপ্ত ট্রমা সেন্টার গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান হাসপাতালগুলোয় জরুরি চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন। এতে গুরুতর আহত রোগীদের চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

আরও