ব্যথানাশক ওষুধ ছাড়াই ফ্রোজেন শোল্ডার থেকে মুক্তি!

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?

ফ্রোজেন শোল্ডার হলো কাঁধের একটি সাধারণ সমস্যা, যেখানে কাঁধের জয়েন্টের চারপাশের ক্যাপসুল শক্ত ও মোটা হয়ে যায়।

ফলে কাঁধে ব্যথা, শক্ত ভাব এবং নড়াচড়ার সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়। মুকঅনেকেই মনে করেন, ফ্রোজেন শোল্ডার থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খেতে হবে। তবে চিকিৎসকদের মতে, ব্যথানাশক ওষুধ সাময়িকভাবে ব্যথা কমাতে সাহায্য করলেও রোগটি ভালো করার মূল উপায় নয়। সঠিক ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি এবং ধৈর্যের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ ছাড়াই উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

ফিজিওথেরাপি: ফ্রোজেন শোল্ডারের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ফিজিওথেরাপি। নিয়মিত ও সঠিকভাবে করা স্ট্রেচিং ব্যায়াম কাঁধের জয়েন্টের শক্ত ভাব কমাতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে নড়াচড়ার পরিধি বাড়ায়। ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট ব্যায়াম নির্ধারণ করেন। ব্যথা সহ্যসীমার মধ্যে রেখে ধীরে ধীরে ব্যায়াম করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

নিয়মিত কাঁধের ব্যায়াম জরুরি : বাড়িতেও কিছু সহজ ব্যায়াম নিয়মিত করা যেতে পারে। যেমন পেন্ডুলাম এক্সারসাইজ, ফিঙ্গার ওয়াক, টাওয়েল স্ট্রেচ, ক্রস-বডি স্ট্রেচ এবং ওয়াল ক্লাইম্বিং এক্সারসাইজ। এসব ব্যায়াম কাঁধের নমনীয়তা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে ভুল পদ্ধতিতে বা অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করে ব্যায়াম করলে ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করা উচিত।

গরম সেঁক দিতে পারেন : ব্যায়ামের আগে ১৫-২০ মিনিট গরম সেঁক দিলে কাঁধের পেশি শিথিল হয় এবং ব্যায়াম করতে সুবিধা হয়। গরম সেঁক রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে জয়েন্টের জড়তা কিছুটা কমাতেও সাহায্য করে। অনেক রোগী নিয়মিত গরম সেঁকের মাধ্যমে ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতে সক্ষম হন।

দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যেতে হবে : অনেকেই ব্যথার কারণে কাঁধ একেবারে নাড়ানো বন্ধ করে দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় কাঁধ অচল রাখলে সমস্যা আরো বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যতটা সম্ভব স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত। এতে কাঁধের জয়েন্ট সচল থাকে এবং শক্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি : ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে ফ্রোজেন শোল্ডারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায় এবং সেরে উঠতেও তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ধৈর্য ধরতে হবে : ফ্রোজেন শোল্ডার সাধারণত ধীরে ধীরে ভালো হয়। রোগটি তিনটি ধাপে অগ্রসর হয়—প্রথমে ব্যথার ধাপ, এরপর কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়ার ধাপ এবং সর্বশেষ ধীরে ধীরে সেরে ওঠার ধাপ। পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েক মাস থেকে দুই বা তিন বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তাই দ্রুত ফলের আশা না করে নিয়মিত ব্যায়াম ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।

আরও