মানুষের লিভার বা যকৃত দিনের নির্দিষ্ট সময় মেনে কাজ করে। শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা বিভিন্ন প্রোটিন কখন রক্তে ছাড়তে হবে, তা ঠিক করে লিভারের নিজস্ব জৈবিক ঘড়ি। নতুন এ তথ্য ভবিষ্যতে স্থূলতা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন বিপাকজনিত রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট সান আন্তোনিওর স্বাস্থ্যবিজ্ঞান কেন্দ্রের গবেষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী লিভারের অনেক প্রোটিন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে রক্তে প্রবেশ করে। এসব প্রোটিনের মাধ্যমে লিভার শরীরের চর্বিযুক্ত টিস্যু, পেশি ও অন্যান্য অঙ্গের কাছে সংকেত পাঠায়। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে শরীরের বিপাকক্রিয়া প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
মানবদেহের প্রায় প্রতিটি কোষেই একটি নিজস্ব জৈবিক ঘড়ি রয়েছে। এ ঘড়ি ঘুম, খাবার গ্রহণ, হজম ও শক্তি ব্যবহারের মতো দৈনন্দিন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু বিভিন্ন কোষের ঘড়ি কীভাবে একে অন্যের সঙ্গে সমন্বয় করে, তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।
গবেষক কেভিন কোরোনোভস্কি বলেন, কেন্দ্রক রয়েছে এমন প্রায় সব কোষেই জৈবিক ঘড়ি সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা আছে। এ ঘড়ির মাধ্যমে শরীর বিভিন্ন কাজ সঠিক সময়ে ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করে।
অনিয়মিত সময়ে খাবার গ্রহণ ও ঘুমের অভ্যাসের সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। শরীরের বিপাকক্রিয়ায় লিভারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় গবেষকরা এর নিজস্ব ঘড়ির কাজ বোঝার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে লিভার কখন অন্য অঙ্গের কাছে সংকেত পাঠানো প্রোটিনগুলো রক্তে ছাড়ে, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক ক্রিস্টোফার লিটউইন বলেন, লিভার কিছু প্রোটিনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে—এ তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল। তবে এসব প্রোটিন ঠিক কখন এবং কীভাবে রক্তে প্রবেশ করে, তা বিস্তারিতভাবে পরিমাপের সুযোগ এতদিন ছিল না।
গবেষণায় ‘এন্ডোস্ট্যাটিন’ নামের একটি প্রোটিন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। লিভার থেকে নিঃসৃত এ প্রোটিন শরীরের চর্বি ভাঙতে সহায়তা করে। গবেষকরা দেখেছেন, লিভারের স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী নিঃসৃত হলে প্রোটিনটি সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজ করে। অর্থাৎ এ প্রোটিনের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা তৈরি হলে দিনের কোন সময়ে তা দেয়া হচ্ছে, তার ওপর কার্যকারিতা নির্ভর করতে পারে।
গবেষকরা এখন বিপাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে—এমন নতুন পেপটাইড খুঁজছেন। তাদের লক্ষ্য, জিএলপি-১ শ্রেণীর ওষুধের মতো কার্যকর অথবা তার চেয়েও উন্নত নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরি করা।