দূষিত পানি ও খোলা খাবার গ্রহণের ফলে অন্ত্রের যে ব্যাধিগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তার মধ্যে টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েড অন্যতম। এ দুই রোগই বাহ্যিকভাবে প্রায় একই ধরনের লক্ষণ তৈরি করলেও চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিচারে এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
টাইফয়েড কী?
টাইফয়েড হলো সালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে সৃষ্ট একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি; যা মূলত জীবাণুযুক্ত দূষিত পানি, অপরিচ্ছন্ন খাবার ও দুর্বল পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে মানবদেহে ছড়ায়। আক্রান্ত হলে উচ্চ তাপমাত্রা, পেটে ব্যথাসহ ধাপে ধাপে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে।
প্যারাটাইফয়েড কী?
প্যারাটাইফয়েড হলো সালমোনেলা প্যারাটাইফি (এ, বি বা সি) ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে সৃষ্ট অন্ত্রের সংক্রমণ। টাইফয়েডের মতোই এটিও দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে টাইফয়েডের তুলনায় সাধারণত এর লক্ষণ ও জটিলতার তীব্রতা কিছুটা কম হয়ে থাকে।
যেভাবে বুঝবেন টাইফয়েড না প্যারাটাইফয়েড
সৃষ্টিকারী জীবাণু: টাইফয়েড ছড়ায় সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে, অন্যদিকে প্যারাটাইফয়েড সৃষ্টি করে সালমোনেলা প্যারাটাইফি (এ, বি অথবা সি) জীবাণু।
রোগের তীব্রতা ও জ্বর: টাইফয়েডে শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে এবং তা ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে। প্যারাটাইফয়েডের ক্ষেত্রে জ্বর থাকলেও তার তীব্রতা টাইফয়েডের চেয়ে মৃদু হয়।
পাকস্থলী ও অন্ত্রের উপসর্গ: টাইফয়েডের প্রাথমিক পর্যায়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। তবে প্যারাটাইফয়েডের শুরুতে বমি ভাব ও ডায়রিয়ার লক্ষণ বেশি স্পষ্ট হতে পারে।
র্যাশ বা লালচে দাগ: টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীর বুক ও পেটে বিশেষ ধরনের লালচে দাগ বা ‘রোজ স্পট’ স্পষ্ট দেখা যায়। প্যারাটাইফয়েডে এ দাগ খুব কমই চোখে পড়ে।
শারীরিক জটিলতা: টাইফয়েডে অন্ত্রে ছিদ্র হওয়া বা রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক ঝুঁকির আশঙ্কা বেশি থাকে। প্যারাটাইফয়েডেও জটিলতা হতে পারে, কিন্তু সে ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
প্রতিষেধক বা টিকা: টাইফয়েডের জন্য কার্যকর ও অনুমোদিত টিকা বিশ্বজুড়ে সহজেই পাওয়া যায়। কিন্তু প্যারাটাইফয়েডের সুরক্ষায় সর্বজনীন বা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত কোনো টিকা এখনো নেই।
হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুঝুঁকি: তীব্রতার কারণে টাইফয়েড রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন বেশি পড়ে এবং চিকিৎসা না পেলে ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে মৃদু প্রকৃতির হওয়ায় প্যারাটাইফয়েডে হাসপাতালে ভর্তির সম্ভাবনা কম এবং সময়মতো চিকিৎসায় মৃত্যুহার প্রায় নেই বললেই চলে।
প্রতিরোধে করণীয়
উভয় রোগ থেকেই বাঁচতে বিশুদ্ধ পানি পান করা, রাস্তার খোলা বা অপরিচ্ছন্ন খাবার এড়িয়ে চলা এবং হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শে ব্লাড কালচার বা রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। কেননা দুটির ক্ষেত্রেই দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নেয়া গুরুত্বপূর্ণ।