লিউকেমিয়ায় থাকে যেসব লক্ষণ

রক্ত ও অস্থিমজ্জার মরণঘাতী ক্যান্সার লিউকেমিয়া। আমরা জানি, রক্তকোষ তৈরি হয় অস্থিমজ্জায়।

এরপর ধাপে ধাপে পরিপক্ব হয়ে এটি রক্তে আসে। কোনো কারণে মাত্রাতিরিক্ত হারে ও অস্বাভাবিকভাবে এ রক্তকোষ তৈরি হলে সেগুলো পরিপক্ব হতে পারে না। তখন প্রচুর অপরিপক্ব, অকর্মণ্য ও অস্বাভাবিক রক্তকোষ রক্তপ্রবাহে চলে আসে। এ অস্বাভাবিক রক্তকোষ সুস্থ রক্তকোষের স্থান দখল করে রক্তের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়, যাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

লিউকেমিয়ার প্রকারভেদ

লিউকেমিয়া প্রধানত চার প্রকার।

 অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক

 লিউকেমিয়া অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া

 লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া ও

 ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া

ঝুঁকির কারণ

 প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণ

 রাসায়নিক বর্জ্য

 কিছু ভাইরাস যেমন হিউম্যান লিম্ফোট্রপিক ভাইরাস ও কিছু কেমিক্যাল যেমন—বেনজিন

 তামাকের ব্যবহার অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়

 চুলের ডাইয়ের ব্যবহার

 কৃত্রিম রঙ

 কীটনাশক

 উচ্চ চৌম্বকীয় ক্ষেত্র শিশুদের লিউকেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

 গর্ভাবস্থায় মায়ের লিউকেমিয়া থাকলে শিশুরও হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়

উপসর্গ

ক্লান্তি ও দুর্বলতা: লিউকেমিয়ার সবচেয়ে দৃশ্যমান ও সাধারণ উপসর্গ ক্লান্তি ও দুর্বলতা। লোহিত রক্তকণিকার ঘাটতির কারণে এ লক্ষণ দেখা যায়।

ফ্যাকাসে ত্বক: একই কারণে তথা লোহিত রক্তকণিকার ঘাটতির ফলে ত্বকে ফ্যাকাসে ভাব চলে আসে।

অল্পতেই রক্তপাত: সামান্য আঘাতেই রক্তপাত বা রক্ত জমার মতো সমস্যা দেখা দেয়। যেমন দাঁত ব্রাশের সময় দাঁতের গোড়া বা মাঢ়ি দিয়ে রক্তপাত হওয়া।

ত্বকের নিচে লাল বিন্দু: ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণজনিত ছোট ছোট লাল বিন্দু দেখা যেতে পারে।

সহজেই সংক্রমিত হওয়ার প্রবণতা: জীবনযাপনে একটু এদিক-ওদিক হলে সহজেই অসুস্থ হয়ে যাওয়া।

স্ফীত ও বর্ধিত মাড়ি: জিনজিভাল হাইপারপ্লাসিয়া তথা মাড়ির আকার বেড়ে যাওয়া লিউকেমিয়ার উল্লেখযোগ্য উপসর্গ।

ক্ষুধামান্দ্য ও ওজন কমে যাওয়া: লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে কিছু ক্যান্সার কোষ হজম প্রক্রিয়াকে (মেটাবলিজম) ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই হঠাৎ দ্রুত ওজন কমে যেতে পারে।

লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া: ঘাড়, বগল ও কুঁচকিতে উল্লেখযোগ্য স্ফীত ও ব্যথাবিহীন লসিকাগ্রন্থি থাকতে পারে।

পেট ভরা বা পেট ফাঁপা অনুভূতি: দীর্ঘ সময় পেট ভরা বা পেট ফাঁপা অনুভূত হলে লিউকেমিয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

বাম পাঁজরের নিচের দিকে ব্যথা: লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে প্লীহা অস্বাভাবিক বড় হয়ে যায়। ফলে বুকের পাঁজরের বাম দিকে ব্যথা হতে পারে।

রাতে ঘাম হওয়া: রাতের বেলায় হুট করে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ফলে প্রচুর পরিমাণে ঘাম হতে পারে। অতিরিক্ত ঘামে শরীর ও বিছানার চাদর ভিজে যেতে পারে।

ত্বকে র‌্যাশ: লিউকেমিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত র‌্যাশের আকার-আকৃতি যেমনই হোক, এগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন বিষয় রয়েছে। তা হলো এগুলো বিকশিত হয় এবং ছড়াতে থাকে।

লেখক: রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ফিজিশিয়ান

ল্যাবএইড হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা

আরও