সুস্থ থাকতে আমরা সাধারণত খাবারের মান ও পরিমাণের দিকে বেশি নজর দিই। কিন্তু খাবার খাওয়ার সময়টাও শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুম, ক্ষুধা, হরমোন নিঃসরণ ও হজমের মতো কাজ ২৪ ঘণ্টার একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ছন্দ অনুসরণ করে। এই ছন্দের সঙ্গে মিল রেখে খাবার খেলে হজম, শক্তির ভারসাম্য ও বিপাকক্রিয়া ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
শরীরের এ ২৪ ঘণ্টার ছন্দকে বলা হয় বায়োলজিকাল ক্লক বা সার্কাডিয়ান ছন্দ। আলো ও অন্ধকারের পরিবর্তনের পাশাপাশি খাবার গ্রহণও আমাদের শরীরের এ ঘড়িকে প্রভাবিত করে। দিনের আলো থাকা অবস্থায় নিয়মিত নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার খাওয়া হজমের স্বাভাবিক নিয়ম ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিপরীতে, গভীর রাতে খাওয়া বা প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে খাবার খেলে এই ঘড়ির নিয়মিত ছন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
দিনের শুরুতেই শক্তি জোগাতে এবং পরিপাকপ্রক্রিয়া সচল রাখতে সুষম সকালের নাশতা গ্রহণ করতে হবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুর দিকে আমাদের শরীর ইনসুলিন গ্রহণ ও শক্তি প্রক্রিয়াজাতকরণে সবচেয়ে বেশি সক্ষম থাকে। তাই ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিটের মধ্যে উচ্চ ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার, আমিষ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ নাশতা খেলে পুরো দিনের পরিপাকপ্রক্রিয়া ভালোভাবে সচল হয়। অপরদিকে সকালে বা দুপুরে না খেয়ে দেরিতে খেলে রক্তে শর্করার তারতম্য ঘটে এবং সারা দিনে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
বিপাকক্রিয়া ও শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে দুপুরের খাবারে বেশি করে শাকসবজি যোগ করুন
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতের দিকে খাবার কম খান এবং দিনের শুরুর দিকে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করেন, তাদের ওজন ও রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে। রাতে যখন পরিপাকপ্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, তখন চর্বিযুক্ত বা শর্করা জাতীয় ভারী খাবার খেলে হজমে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
খাবার গ্রহণের সময়ের ক্ষেত্রে নিয়মানুবর্তিতা অত্যন্ত জরুরি। অনেকে প্রতি তিন থেকে চার ঘণ্টা পর পর অল্প পরিমাণে খেতে পছন্দ করেন, আবার অনেকে নির্দিষ্ট আট ঘণ্টার মধ্যে দিনের সব খাবার গ্রহণ করেন। যে নিয়মই অনুসরণ করা হোক না কেন, প্রতিদিন একই সময়ে খাবার খেলে আমাদের পরিপাকতন্ত্র আগে থেকেই হজমরস নিঃসৃত করতে প্রস্তুত থাকে।
সহজে হজম ও ভালো ঘুমের জন্য রাতে হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কেবল পুষ্টিকর খাবার বাছাইয়ের ওপর নির্ভর করে না, তা সঠিক সময়ে গ্রহণ করার ওপরও সমানভাবে নির্ভরশীল। ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার দিনের প্রথম ভাগে খেলে তা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়, আর অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার রাতে এড়িয়ে চললে ঘুম আর হজম দুটিই ভালো হয়। তাই আজকে থেকে শুধু খাবারের তালিকার দিকেই নয়; বরং ঘড়ির কাঁটার দিকে খেয়াল রেখে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।