বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া

সিরোসিসে আক্রান্তরা বেশি ঝুঁকিতে

লিভার সিরোসিস হলে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যায়। স্বাভাবিক কাজ বাধাগ্রস্ত হয়।

লিভার সিরোসিস হলে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যায়। স্বাভাবিক কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। সিরোসিসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক অবস্থায় ‍লিভার ঠিকঠাকভাবে কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়। বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়ায় আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে সিরোসিস আরো বেশি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে পোর্টাল হাইপারটেনশন। পোর্টাল ভেইন লিভারের মধ্য দিয়ে যায়। দুটি আলাদা আলাদা শিরাজুড়ে পোর্টাল ভেইন তৈরি হয়। এ দুটি হলো স্প্লিনিক ভেইন আর মেসেন্ট্রিক ভেইন।

এ দুইয়ের সমন্বয়ে তৈরি পোর্টাল ভেইন লিভারের মধ্য দিয়ে ইনটেস্টিনাল ব্লাড বহন করে। লিভারের কোনো জটিল অবস্থায় পোর্টাল ভেইনের রক্তসঞ্চালন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তৈরি হয় হাইপারটেনশন। এ অবস্থারই নাম ডাক্তারি পরিভাষায় পোর্টাল হাইপারটেনশন।

এছাড়া এক্সট্রা হেপাটিক পোর্টাল অবস্ট্রাকশন বা লিভারের বাইরে কোনো পোর্টাল অবস্ট্রাকশন হলেও এ রক্তসঞ্চালন বাধা পেতে পারে। পোর্টাল হাইপারটেনশনের ফলে স্প্লিন বড় হয়ে যেতে পারে। পেটের ভেতরে পানিও জমতে পারে। তবে গুরুতর অবস্থায় পেটের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। সে কারণে শিশুর ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী।

পোর্টাল হাইপারটেনশন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আগে থেকে বোঝা যায় না। ক্রমাগত রক্তপাতের ফলে হিমোগ্লোবিন কমে গিয়ে অ্যানিমিয়া হতে পারে। পেটে পানি জমে পেট ফুলে যেতে পারে। পেটের ভেতরে ভারী বোধ হতে পারে। আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্তবমি ও কালো স্টুল হতে পারে। জন্ডিসও হতে পারে। সে কারণে বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়ায় আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করাতে হবে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে থাকতে হবে।

আরও